বাংলা হান্ট ডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গে এখনও শেষ হয়নি এসআইআর-এর (SIR) প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে শোরগোল উঠল একটি অডিওকে কেন্দ্র করে। শোনা যাচ্ছে পাঁচ বাংলাদেশীকে টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম তুলে দেওয়া হবে। এই অডিও ক্লিপ নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল বিজেপি।
মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা দিলে নাম থাকবে এসআইআর (SIR) তালিকাতে:
বাগদায় একশো কুড়ি নম্বর বুথের বিএলও চন্দ্রকান্ত, তার বিরুদ্ধেই উঠেছে এই মারাত্মক অভিযোগ। অডিওতে শোনা যাচ্ছে এক বাংলাদেশীর সঙ্গে চন্দ্রকান্তের কথোপকথন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে পাঁচজনের নাম ভারতের ভোটার লিস্টে তোলার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগবে অর্থাৎ মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা দিলেই ভোটার লিস্টে নাম তুলে দেওয়া হবে।
তালিকায় যে জায়গা আনম্যাপড হয়ে রয়েছে, সেই জায়গাটা বিএলও সাদাকালি দিয়ে মুছে দেবেন, এমনটা শোনা গেছে ওই অডিও ক্লিপে। সেই সঙ্গে বিএলও, ইআরও, এইআরও, মাইক্রো অবজার্ভার, প্রত্যেকের নাম আলাদা আলাদা করে নেওয়া হয়েছে ওই অডিও ক্লিপে। অভিযোগ ওঠার পর বিএলও চন্দ্রকান্তকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন ‘এটা সম্পূর্ণই মিথ্যা। এআইয়ের যুগে এই ধরনের অডিও কেউ বানিয়ে থাকতেই পারে। তাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে, কোন অডিও ভাইরাল হয়েছে সেটাও আমার জানার প্রয়োজন নেই। সত্যতা তদন্ত করেই বোঝা যাবে।’
আরও পড়ুন:‘পদের লোভে আসেন নি প্রতীক-উর’, কেন দলবদল করলেন সিপিএম-ত্যাগী যুবনেতা? জানালেন খোদ অভিষেক
এ বিষয়ে বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল ধর নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন এক বাংলাদেশীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, পাঁচটা নাম তুলে দেবেন, তার জন্য ৫০ হাজার টাকা নেবেন। অডিওটা আমাদের কাছে এসেছে, আমি কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সত্যিই যদি বিএলও এই ধরনের কাজ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শোনা যাচ্ছে তিনি ইমেইলের মাধ্যমে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও বিডিও-র কাছেও বিএলও-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন এই ব্যাপারে।
আরও পড়ুন:রাজ্যে ৬ লাখের বেশি ভুয়ো ভোটার! SIR এর রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য, কোন জেলায় সংখ্যাটা সবথেকে বেশি?

যে ব্যক্তির থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে, তিনি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশ থেকে খুব বেশিদিন হয়নি এ দেশে এসেছেন। তাদের পরিচয় পত্র তৈরি করা হয়েছে ঘুরপথে, সকলেই অবহিত সে ব্যাপারে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই তাদের। এসআইআর-এর আবহে ওই পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার জন্য এই ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।













