LPG সঙ্কটে থমকাল অযোধ্যার প্রসাদ প্রস্তুতি,গ্যাসের অভাবে বন্ধ ‘রাম রসোই’

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে  ব্যাঘাত ঘটছে তার প্রভাব এবার এসে পড়ল ভারতের ধর্মনগরী অযোধ্যাতেও (Ayodhya Ram Mandir)। জানা গিয়েছে, এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শহরের একাধিক মঠ ও মন্দিরের কমিউনিটি কিচেন এবং প্রসাদ প্রস্তুতির কাজ ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গ্যাসের ঘাটতির জেরে বহু জায়গায় রান্না বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানির সংকটের প্রভাব এবার এসে পড়ল অযোধ্যার রাম মন্দিরেও (Ayodhya Ram Mandir)

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে আমভা মন্দিরের কমিউনিটি কিচেন ‘শ্রী রাম রসোই’-তে। এই রান্নাঘর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ভক্তকে বিনামূল্যে প্রসাদ বা খাবার বিতরণ করা হয় থাকে। কিন্তু জানা যাচ্ছে এই এলপিজি সঙ্কটের জেরে আপাতত সেই পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে মন্দির প্রশাসন। রান্নাঘরের বাইরে ইতিমধ্যে একটি নোটিশও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আপাতত সেই পরিষেবা এখন বন্ধই থাকবে। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে যে গ্যাস সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫.৮৬ কোটি টাকার বেতনের চাকরি ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ, ফেডারেল ব্যাঙ্কের হাল ধরলেন কেভিএস ম্যানিয়ান

পাশাপাশি এই সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে অযোধ্যার বিখ্যাত হনুমানগড়ি মন্দিরেও। এখানে প্রসাদ হিসেবে বিক্রি হওয়া লাড্ডু প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রসাদ বিক্রেতা নন্দকুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, গ্যাসের অভাবে লাড্ডু তৈরি করা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবল আগের তৈরি করে  মজুত রাখা লাড্ডুগুলিই বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণত এখানকার প্রতিটি দোকানেই প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি লাড্ডু তৈরি করা হয় থাকে। কিন্তু গ্যাস না থাকায় সেই কাজ এখন পুরোপুরি থমকে গিয়েছে। এতে প্রায় ১৫০ জন দোকানদার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীর আশঙ্কা করছেন যে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় তবে  বজরংবলীর নৈবেদ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও সমস্যায় পড়তে পারে। অযোধ্যার প্রসাদ সারা দেশেই জনপ্রিয়, তাই এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ভক্তদের পাশাপাশি দোকানদাররাও বড় বিপদে পড়তে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ প্রস্তুতিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Impact of fuel crisis hit Ayodhya Ram Mandir.

আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডার অমিল, মিষ্টি ছাড়াই কাটাতে হবে পয়লা বৈশাখ?

এদিকে এলপিজি সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে অযোধ্যার বাকি হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতেও। মালিকদের দাবি, গত দু’দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে রান্না এবং বুকিং দু’দিকেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং পর্যটকদের খাবারের ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে উঠবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট এখন সাধারণ মানুষের রান্নাঘর ছাড়িয়ে রাম জন্মভূমির প্রসাদ প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।