বাংলাহান্ট ডেস্ক: ত্রিপুরার (Tripura) পুলিশ মহলে সোমবার সকালে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। রাজ্যের ডিজি অনুরাগ ধনখড়ের (Anurag Dhankar) অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আগরতলায় (Agartala) ত্রিপুরা পুলিশের সদর দফতরের একটি কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে অনুমান করা হলেও, পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
ত্রিপুরায় (Tripura) পুলিশের সদর দফতর থেকে ডিজির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সদর দফতরের যে ঘর থেকে অনুরাগ ধনখড়ের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই এলাকাটি অবিলম্বে সিল করে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। কোনও ধরনের অসঙ্গতি বা অন্য কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও ঘটনাটিকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে, তবু সরকারি তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত সংযত অবস্থানই নিয়েছে।
আরও পড়ুন: লর্ডসে দুরন্ত সেঞ্চুরির পরেও টিম ইন্ডিয়া থেকে বাদ পড়বেন রোহিত শর্মা? কী পরিকল্পনা BCCI-র?
অনুরাগ ধনখড় ছিলেন ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কর্মজীবনের নানা পর্যায়ে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁকে ত্রিপুরা পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়। ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নানা বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ঘটনার পর অনুরাগ ধনখড়ের দেহ আগরতলার গোবিন্দবল্লভ পন্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল চত্বরে দিনভর ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তা। তাঁদের অনেকেই এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি বাসেও এবার বিনামূল্যে যাতায়াত! কোন রুট, কারা সুবিধা পাবেন জানুন
ত্রিপুরার (Tripura) মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের পুলিশ প্রধানের এমন আকস্মিক ও রহস্যঘেরা মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, এর পিছনে ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনও কারণ ছিল কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। আপাতত গোটা রাজ্যের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের পরবর্তী বিবৃতির দিকে। একজন অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকের এই অকাল প্রয়াণে প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।













