পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে গিয়ে মাথায় হাত এই দেশগুলির! ভারতীয়রা দেখিয়ে দিল শক্তি

Published on:

Published on:

India showed strength these countries due to friendship with Pakistan.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে গিয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে তুরস্ক এবং আজারবাইজানকে। শুধু তাই নয়, ওই দেশগুলির পর্যটন ব্যবসাও যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছে। ভারতের (India) বিরুদ্ধে কথা বলার ফলে ভারতীয় পর্যটকরা এই দুই দেশে তাদের অর্থব্যয় করা বন্ধ করে দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন যে, একসময় ভারতীয়দের ভিড় পরিলক্ষিত করা বিমান এবং হোটেলগুলি এখন খালি। এমতাবস্থায়, পর্যটকদের (Tourists) কাছ থেকে আসা আয়ে তীব্র পতন উভয় দেশকেই ভারতের সঙ্গে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রভাবিত তুরস্ক-আজারবাইজানের পর্যটন শিল্প:

সামনে এল পরিসংখ্যান: CNN-News18-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তুরস্ক এবং আজারবাইজানের সৌন্দর্য দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক ভারতীয় পর্যটক পাড়ি দিতেন। কিন্তু, এখন তাঁরা সেখানে যেতে দ্বিধা করছেন। জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, আজারবাইজানে আসা ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমেছে। তুরস্কে আসা পর্যটকের সংখ্যাও ৩৪ শতাংশ কমেছে।

India showed strength these countries due to friendship with Pakistan.

২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১,৫৩,০০০ ভারতীয় পর্যটক আজারবাইজান ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭,০০০-এ। একইভাবে, তুরস্কে ২০২৪ সালের ওই ৬ মাসে ২০৫,০০০ ভারতীয় পর্যটক এসেছিলেন। গত বছর এই সংখ্যা কমে ১,৩৫,০০০-এ দাঁড়িয়েছে। এই হ্রাস স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভারতীয় পর্যটকরা ভ্রমণের জন্য ভারতের স্বার্থের প্রতিকূল দেশগুলিকে আর বেছে নিচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: বড় খবর! টাটা ট্রাস্টসকে বিদায় জানাচ্ছেন রতন টাটার এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী

অপারেশন সিঁদুরের পর পাল্টেছে ছবি: এই সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে গত বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং এরপর ভারত কর্তৃক শুরু করা অপারেশন সিন্দুরের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানে প্রবেশ করে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা ধ্বংস করে, তখন পুরো বিশ্ব সেই অভিযানের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু, তুরস্ক এবং আজারবাইজান প্রকাশ্যে পাকিস্তানের সমর্থনে বিবৃতি দেয়। এদিকে, পহেলগাঁও হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে তুরস্ক কেবল পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দেয়নি, বরং ভারতের বিরুদ্ধে তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি উঠে এসেছে। আজারবাইজানও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিল। আর ওই অবস্থান ভারতীয় জনসাধারণ ভালোভাবে নেননি। যার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বয়কট তুরস্ক’-র মতো প্রচার শুরু হয়েছিল এবং জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে। সেই ক্ষোভের যার প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন সেখানকার পর্যটন পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ নিয়ে বিরোধের জের! আদানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই বাংলাদেশের, নেওয়া হল বড় পদক্ষেপ

ভ্রমণ সংস্থাগুলিও বড় পদক্ষেপ নেয়: ভারতীয়দের ক্ষোভের মুখে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভ্রমণ সংস্থাগুলিও একটি বড় পদক্ষেপ নেয়। MakeMyTrip, EaseMyTrip এবং Cleartrip-এর মতো প্রধান ট্রাভেল ওয়েবসাইটগুলি তুরস্ক ট্যুর প্যাকেজের প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। যখন এই প্ল্যাটফর্মগুলি তুরস্কের প্রচার বন্ধ করে দেয়, তখন সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য সেখানে তাঁদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও, হাজার হাজার মানুষ তাঁদের আগে থেকে বুক করা টিকিট বাতিল করেছেন। সামগ্রিকভাবে গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসেই ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা কমছে। ২০২৫ সালের শুরুতে আজারবাইজান ভ্রমণকারী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরের ৪ মাসে এই হার তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে।