বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত মহাসাগরে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ তৈরি করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়োজিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা এবং বহুজাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলান’। সেই উপলক্ষে একে একে বন্দর শহরে পৌঁছচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধজাহাজ। এই সামরিক মহড়া যেমন কৌশলগত প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে, তেমনই কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারতীয় নৌসেনা-র তরফে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজন আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে।
ভারত মহাসাগরে শক্তি প্রদর্শন ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy)
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার এই মহড়ায় অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘কে আর আই বুং তোমো-৩৫৭’ বিশাখাপত্তনমে নোঙর করেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্ভেট ‘আল-ইমারাত’ও যোগ দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত রয়েছে বাংলাদেশের নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ‘বিএনএস সমুদ্র অভিযান’। এছাড়া থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার যুদ্ধজাহাজও ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। বহুজাতিক অংশগ্রহণ এই মহড়াকে কেবল সামরিক অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতার এক বৃহত্তর মঞ্চে পরিণত করছে।
আরও পড়ুন: AI-এর দুনিয়ায় ধামাকাদার ‘এন্ট্রি’ আদানির! করবেন ৯ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ, সামনে এল মেগা প্ল্যান
নৌবহর পর্যালোচনায় অংশ নেবে মোট ৭১টি জাহাজ ও সাবমেরিন। তার মধ্যে ৪৫টি ভারতীয় নৌসেনার এবং ১৯টি বিদেশি যুদ্ধজাহাজ। পাশাপাশি কোস্টগার্ড, মার্চেন্ট নেভি এবং গবেষণার কাজে ব্যবহৃত জাহাজও যুক্ত হবে এই কর্মসূচিতে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ভারতের প্রথম স্বদেশে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী INS Vikrant। ১৮ ফেব্রুয়ারি এই বিশাল নৌবহর পর্যালোচনা করবেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জাহাজগুলিকে ছয়টি সারিতে সাজিয়ে প্রদর্শন করা হবে, যা সমুদ্রপথে ভারতের কৌশলগত সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে।
‘মিলান’ মহড়ার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে, মাত্র চারটি দেশকে নিয়ে। সময়ের সঙ্গে এর ব্যাপ্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে ৬৫টিরও বেশি দেশের নৌসেনা এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে। এবারের আয়োজনেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্র নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে এই মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কয়লাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ইডি, লালাকে হেফাজতে নিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন করে উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক সময় কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এমনকি ১৯৭১ সালের পর প্রথমবার বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ ঘিরে বিতর্কও দেখা দেয়। তবে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের তরফে বাংলাদেশকে এই নৌ-মহড়ায় আমন্ত্রণ জানানোকে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামরিক মহড়ার আড়ালে তাই স্পষ্ট বার্তা—ভারত মহাসাগরে সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।












