বাংলা হান্ট ডেস্ক : ট্রেনের ধাক্কায় বন্য হাতির মৃত্যুর ঘটনা কমাতে বড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই-এর ওপর নির্ভর এক অভিনব ব্যবস্থার মাধ্যমে রেললাইনই হাতির চলাচলের আভাস পাবে। ‘গজরাজ সুরক্ষা’ নামে এই প্রকল্পের লক্ষ্য, হাতির উপস্থিতির খবর আগেভাগে স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে ট্রেন চালকদের সতর্ক করা, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
হাতি মৃত্যুর ঘটনা এড়াতে বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের (Indian Railways)
১৮১ কোটি টাকার এই প্রকল্পে রেললাইনের পাশে হাতির পায়ের কম্পন শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী স্টেশনে সংকেত পাঠাবে প্রযুক্তি। এরপর স্টেশন থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের চালককে সতর্ক করা হবে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ঝাড়গ্রাম থেকে গিধনি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রেলপথ দীর্ঘদিন ধরেই হাতিদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ট্রেনের চালকদের পক্ষে আগে থেকে হাতির পাল দেখতে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপর পুরো এলাকাই ঘন জঙ্গলে ঘেরা হওয়ায় দৃশ্যমানতাও খুব কম থাকে। গত প্রায় দশ বছরে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল ও পাহাড়ি রেলপথে ট্রেনের ধাক্কায় ২০০-রও বেশি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
এবার এই সমস্যা দূর করতে আগে রেল ও বনবিভাগ যৌথভাবে নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। কোথাও বাঘের গর্জনের রেকর্ড বাজানো হয়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ি মৌমাছির গুঞ্জনের শব্দ শোনানো হয়েছে, যাতে হাতির দল রেললাইন এড়িয়ে চলে। কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী হওয়ায় হাতিরা দ্রুত বুঝে যায় যে সেগুলি কৃত্রিম শব্দ। পরে তারা শব্দের উৎস খুঁজে বের করে সাউন্ড বক্স ভেঙে দেয়। ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক বেড়াও কার্যকর হয়নি।
এবার তাই সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে রেল। ট্র্যাকের পাশে আগে থেকেই থাকা অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ককে এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই প্রযুক্তি প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকেই হাতির পদচারণার ফলে মাটিতে তৈরি হওয়া কম্পন শনাক্ত করতে পারবে। কোনও হাতির দল রেললাইনের কাছে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী স্টেশনে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। এরপর স্টেশনমাস্টার সংশ্লিষ্ট ট্রেনের চালককে সতর্ক করবেন, যাতে সময়মতো ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এই প্রকল্পে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, অসম, কেরালা, ছত্তিসগড় ও তামিলনাড়ুতে মোট ৭০০ কিলোমিটার ‘হাই রিস্ক’ করিডরে এই ব্যবস্থা ইনস্টল করা। প্রথমে তামিলনাডুতে পরীক্ষামূলক ভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হয়। সেখানে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পরে অসমে একটি পাইলট প্রজেক্ট নেওয়া হয়। দেখা যায় উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলে ৭০ কিমি দীর্ঘ একটি সেকশনে এই সিস্টেম ৯৯.৫ শতাংশ পর্যন্ত সাফল্য পেয়েছে।”