অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়ায় যুদ্ধের ময়দানে পিছিয়ে পড়ছে ইরান? সাক্ষাৎকারে কী জানালেন ট্রাম্প?

Published on:

Published on:

Iran is reportedly losing the war due to a depletion of its weapons stockpile says trump.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রায় তিন মাস আগে সংঘর্ষবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে থেমে গিয়েছিল ইরান (Iran) ও আমেরিকা সংঘাত। কিন্তু সেই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকার ধারাবাহিক হামলায় ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির হাতে এখন খুব সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হতে পারে।

অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়ায় ইরান (Iran) যুদ্ধের ময়দানে পিছিয়ে পড়ছে বলে দাবি ট্রাম্পের:

শুক্রবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার সামরিক অভিযান ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় গভীর আঘাত হেনেছে। তাঁর দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের (Iran) হাতে যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, বর্তমানে তার মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি আরও জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ড্রোন তৈরির কারখানা ধ্বংস করেছে। ফলে নতুন করে অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। যদিও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরানের হাতে এখনও কিছু ড্রোন রয়েছে, তবে সেগুলি যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নয় বলেই তাঁর দাবি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে সামরিক ক্ষেত্রে আমেরিকা বর্তমানে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: Vaibhav Sooryavanshi: “আমি RCB ভক্ত” – বিরাটের পরামর্শে বৈভবের নতুন অধ্যায়! কি পরামর্শ দিলেন কোহলি? মিললো উত্তর

তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি করলেও দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এবং তার আর্থিক ও মানবিক খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়েছে ২১৫টি এবং বিপক্ষে ২০৮টি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ট্রাম্পের নিজ দলের কয়েকজন সাংসদও তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে রাজনৈতিকভাবে প্রেসিডেন্টের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। কংগ্রেসের একটি বড় অংশ মনে করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সবসময় লাভজনক নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়বে। ফলে ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই দ্বৈত চাপ তাঁর প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

 Iran is reportedly losing the war due to a depletion of its weapons stockpile says trump.

আরও পড়ুন: টাকা তুলতে গিয়ে বারংবার হতাশ গ্রাহকরা! দেশজুড়ে কেন কমছে ATM-এর সংখ্যা?

অন্যদিকে, ইরান (Iran) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং বিদেশি চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। ফলে বাস্তবে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে একদিকে ট্রাম্পের বিজয়ের দাবি এবং অন্যদিকে কংগ্রেসে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হওয়া, এই দুই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।