বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে কমছে এটিএম পরিষেবার (ATM Service) সংখ্যা? এমনই এক ধারণা নিয়ে এবার রিপোর্ট দিল RBI। ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে নগদের ব্যবহার কমছে—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে যেখানে বাজারে প্রচলিত নগদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা, বর্তমানে তা ৪১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। একই সময়ে প্রচলিত নোটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষকে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। নগদের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেন এটিএমে টাকা মিলছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দেশজুড়ে কি সত্যিই কমছে এটিএম পরিষেবার (ATM Service) হার?
হাবড়ার বাসিন্দা অমল দে-র অভিজ্ঞতা যেন এই সমস্যারই প্রতিচ্ছবি। ওষুধ কেনার জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলেও একের পর এক এটিএম ঘুরেও তিনি টাকা তুলতে পারেননি। কোথাও মেশিনে নগদ ছিল না, কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি, আবার কোথাও পর্যাপ্ত অর্থের অভাব। শুধু অমল দে নন, দেশের বহু প্রবীণ ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ এখনও নগদ লেনদেনের উপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য এটিএমই (ATM Service) প্রধান ভরসা। অথচ ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি এই ব্যবস্থাই এখন অনেক ক্ষেত্রে অচল বা অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: ওটিটির ‘অবাধ স্বাধীনতার’ দিন কি শেষের পথে? নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ইঙ্গিত ট্রাইয়ের
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের এটিএম নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে দেশে ২ লক্ষ ১৯ হাজারের বেশি এটিএম থাকলেও ২০২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২ লক্ষ ৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কমেছে এটিএম ব্যবহারের হারও। ২০২৩ সালে যেখানে ৬৮৫ কোটির বেশি নগদ উত্তোলনের লেনদেন হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ৫৩৪ কোটিতে। ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ উত্তোলনের আর্থিক পরিমাণও ৩২ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআই এবং অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রসার এটিএম ব্যবহারে প্রভাব ফেলেছে। তবে নগদের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির এলাকাগুলিতে।
সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে এটিএমে নগদ সরবরাহের ঘাটতি। কনফেডারেশন অফ এটিএম ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-কে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছে, এটিএমগুলিতে প্রয়োজনীয় নগদের মাত্র ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মেশিনে নগদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় এই সমস্যা বেশি প্রকট। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নগদ পরিবহণ এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের খরচও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে এটিএম পরিচালনা ব্যাঙ্ক ও অপারেটরদের কাছে ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: মেয়ের অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা ঢুকল বাবার অ্যাকাউন্টে, শোরগোল শুরু
ব্যাঙ্কিং মহলের মতে, এটিএম পরিষেবা (ATM Service) বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এখনও নেই, তবে বর্তমান কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আরবিআই-এর ই-সার্ভিল্যান্স সংক্রান্ত নির্দেশিকা, নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির আর্থিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সম্প্রতি একটি বড় এটিএম পরিষেবা সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মেশিনের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে এটিএম কি শুধুই শহুরে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে? ডিজিটাল ভারতের অগ্রগতির মাঝেও নগদ অর্থের উপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের জন্য এই প্রশ্ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।













