ওটিটির ‘অবাধ স্বাধীনতার’ দিন কি শেষের পথে? নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ইঙ্গিত ট্রাইয়ের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিভিশন পরিষেবা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম (OTT Platforms) এবং ফ্রি অ্যাড-সাপোর্টেড স্ট্রিমিং টিভি বা ফাস্ট টিভির। স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভি এবং উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে দর্শকদের এক বড় অংশ এখন প্রথাগত কেবল বা ডিটিএইচ পরিষেবার পরিবর্তে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দিকে ঝুঁকছেন। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট টিভি পরিষেবার জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)। সংস্থার লক্ষ্য, কেবল টিভি ও ডিটিএইচ পরিষেবার মতো ইন্টারনেটভিত্তিক সম্প্রচার মাধ্যমগুলিকেও একটি নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা। তবে সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ওটিটি এবং ফাস্ট টিভি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকেও (OTT Platforms) কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিয়মের আওতায় আনতে চলেছে TRAI!

বর্তমানে ভারতে ওটিটি এবং ফাস্ট টিভি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য কোনও পৃথক লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। এই পরিষেবাগুলি মূলত তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০২১-এর আওতায় পরিচালিত হয়। কিন্তু ডিজিটাল সম্প্রচারের দ্রুত বিস্তারের ফলে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ট্রাই। সেই লক্ষ্যেই গত এপ্রিল মাসে বিভিন্ন সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পমহলের মতামত চেয়ে একটি পরামর্শপত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে অ্যাপ্লিকেশন লিনিয়ার টেলিভিশন ডিস্ট্রিবিউশন (ALTD) এবং ফ্রি অ্যাড-সাপোর্টেড স্ট্রিমিং টেলিভিশন (FAST) পরিষেবাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, সে বিষয়ে মতামত আহ্বান করা হয়। ট্রাইয়ের মতে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত টিভি চ্যানেল, অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটগুলিকে একটি সুসংহত নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন (OTT Platforms)।

আরও পড়ুন: এবার রেল মানচিত্রে জুড়বে করিমপুর-লালগড়-সুন্দরবন, হচ্ছে ৬০ নতুন মেট্রো রেক, বাংলার জন্য মেগা ‘সারপ্রাইস’ আসছে

তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (IAMAI)। সংগঠনের দাবি, প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্মই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশকারী সংস্থা এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলিকেও ভবিষ্যতে লাইসেন্সের আওতায় আনা হতে পারে। IAMAI-এর মতে, ইন্টারনেটভিত্তিক পরিষেবাগুলিকে প্রচলিত সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে এক করে দেখা আইনি ও প্রযুক্তিগতভাবে সঙ্গত নয়। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করতে পারে। পাশাপাশি নতুন নিয়মের ফলে ছোট ও মাঝারি ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের উপরও বাড়তি প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

অন্যদিকে ট্রাই এবং নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, দর্শক সুরক্ষা এবং কনটেন্টের মান বজায় রাখতে একটি অভিন্ন নীতিমালা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে কেবল ও ডিটিএইচ পরিষেবার ক্ষেত্রে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে, ইন্টারনেট টিভির ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। ফলে অশ্লীল বা বিতর্কিত কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সাবস্ক্রিপশন সংক্রান্ত অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকে না। নতুন নিয়ম চালু হলে কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ, গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি, সাবস্ক্রিপশন স্বচ্ছতা এবং ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলিতে আরও স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

Now, TRAI is set to bring OTT platforms under strict regulatory norms as well!

আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা! আজ কোন কোন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা? আজকের আবহাওয়ার খবর

ডিজিটাল বিনোদন ও সম্প্রচার শিল্প বর্তমানে ভারতের দ্রুততম বিকাশমান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। তাই এই খাতে নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকার চাইছে দর্শকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে শিল্পমহল চাইছে উদ্ভাবন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে। ফলে ট্রাইয়ের প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত পক্ষের মতামত বিবেচনা করে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যা একইসঙ্গে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ডিজিটাল শিল্পের বিকাশকেও উৎসাহিত করবে (OTT Platforms)।