বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সরকারি সুবিধা সহজলভ্য করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলায় শুরু হয়েছে ‘জন ভাগীদারী অভিযান’।
‘জন ভাগীদারী অভিযান’ (Jan Bhagidari Abhiyan) আসলে কী ?
জেলার মহীপাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই শিবিরে সকাল থেকেই উপভোক্তাদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। সরকারি পরিষেবা হাতে পেতে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। কয়েক দিন আগেই জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ১৮ মে থেকে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই প্রকল্প।
মূলত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এর প্রধান উদ্দেশ্য। জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার মোট ১০টি ব্লকের ২৫টি গ্রামে এই বিশেষ শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে ক্যাম্প। প্রশাসনের তরফে শুধু নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ নয়, পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এটি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া একটি প্রকল্প। এর মূল স্লোগান, ‘সবসে দূর, সবসে পহলে’।যেসব ব্লকে আদিবাসী মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি, সেগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আউশগ্রাম ১ ও ২ ব্লক, পাশাপাশি পূর্বস্থলী ২-এর মতো দূরবর্তী এলাকাও। বর্ধমান ২ ব্লকের অন্তর্গত মহীপাল গ্রামেও চলছে এই কর্মসূচি। শিবিরে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য জনশুনানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকেরা সরাসরি বাসিন্দাদের সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা করছেন। কাস্ট সার্টিফিকেট, রেশন সংক্রান্ত পরিষেবা, কৃষি সহায়তা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এখানে। এই পরিষেবাগুলিকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে খোলা হয়েছে পোর্টালও। ২৪ ও ২৫ মে পুরো কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করে রাখা হবে।

আরও পড়ুন : নেওয়া হবে কোনও বড় সিদ্ধান্ত? আজ বিকেলেই মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সভাপতিত্ব করবেন মোদী
‘জন ভাগীদারী অভিযান’ প্রকল্পের উপভোক্তা কৃষ্ণা মুর্মু জানান, “পাঁচটি গ্রামের মানুষ এখানে এসে পরিষেবা পাচ্ছেন।” গ্রামবাসী সুদীপ্ত কোনার জানান,”জনজাতিদের জন্য এই প্রকল্প খুব ভাল উদ্যোগ।” আধিকারিক রাজীব নন্দী জানান, “জনজাতি মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই প্রকল্পে দারুণ সাড়া মিলেছে।” প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অংশগ্রহণ এবং উৎসাহও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।













