বাংলা হান্ট ডেস্ক: কথায় আছে, ‘দেওয়ালের ও কান রয়েছে।’ এবার এই প্রবাদকেই সত্যি করতে চলেছে জিও। বলা ভালো, জিওর সৌজন্যে এবার দেওয়াল হতে চলেছে স্মার্ট (Jio Smart Wall)। প্রায়শই দেখা যায় যে বাড়িতে এমন একটি জায়গা থাকে যেখানে ওয়াই-ফাই কানেকশন একেবারেই পাওয়া যায় না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য জিও একটি অনন্য উপায় খুঁজে বের করেছে। ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৫-এ, জিও তার নিজস্ব 6G প্রযুক্তির অংশ হিসাবে ইন্টেলিজেন্ট রিফ্লেক্টিং সারফেস বা স্মার্ট ওয়ালের একটি প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে। এই প্রযুক্তি (Technology) ভবিষ্যতের 6G এবং বিদ্যমান 5G নেটওয়ার্ককে এমন সব এলাকায় সম্প্রসারিত করতে পারে, যেখানে দেওয়াল ও ইমারতের কারণে সিগন্যাল (Signal) পৌঁছতে পারে না। সহজ কথায় বলতে গেলে, জিও এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা দেওয়ালকে স্মার্ট করে তোলে। যা নেটওয়ার্ককে থামানোর পরিবর্তে আরও ছড়িয়ে দেবে।
স্মার্ট ওয়াল (Jio Smart Wall) কীভাবে কাজ করবে?
জানিয়ে রাখি যে, এই ডিভাইসটি নিজে কোনও সিগন্যাল তৈরি করবে না। বরং, এটিকে একটি স্মার্ট আয়নার মতো ভাবতে পারেন। যা ঘরের অন্ধকার কোণায় আলো ছড়ানোর মতো গতিশীল তরঙ্গ পৌঁছে দেবে। এটি অনেকগুলি ছোট প্রোগ্রামযোগ্য উপাদান নিয়ে গঠিত। যা দেওয়াল বা বড় ভবনের মধ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে প্রসারিত করে এমন সব এলাকায় পৌঁছে দেয় যেখানে নেটওয়ার্ক সাধারণত দুর্বল থাকে।

কম শক্তি খরচ করে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক: উল্লেখ্য যে, সাধারণত, দুর্বল সিগন্যালের সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন টাওয়ার বা ছোট সেল বসাতে হয়। এতে খরচ এবং জায়গা, উভয় সমস্যাই তৈরি হয়। অন্যদিকে, জিও-র স্মার্ট ওয়াল প্যানেল খুব কম শক্তি খরচ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা AI ব্যবহার করে সর্বত্র সিগন্যাল পৌঁছে দেয়। অর্থাৎ, এর জন্য নতুন টাওয়ার বসাতে হবে না, বরং এই প্রযুক্তি আগে থেকে বিদ্যমান টাওয়ারগুলির নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: ২০৩৫ সালের মধ্যে Indian Navy-তে যুক্ত হবে ২০০ টি জাহাজ! জানুন চিন ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর ক্ষমতা
গ্লোবাল 6G রিসার্চে স্থান করে নিল ভারত: জানিয়ে রাখি যে, জিও-র আগে জাপানের এনটিটি ডোকোমো এবং ফ্রান্সের অরেঞ্জের মতো সংস্থাগুলি একই ধরণের পরীক্ষা চালিয়েছে। জিও-র দেশীয় 6G প্রোটোটাইপ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতও গ্লোবাল 6G রিসার্চের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে, বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে এর সময় লাগবে। কিন্তু, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মোবাইল নেটওয়ার্ককে আরও অনেক বেশি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবেন গ্রাহকেরা।













