সকালে চালান ট্রাক্টর, সন্ধ্যায় আটার কল! প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করে নজির কল্পনার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে…চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ফের একবার এই কথাটি প্রমাণ করে দিলেন কল্পনা মিশ্র। উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বী জেলার এই মহিলা কৃষিকাজে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গড়ে তুলেছেন সাফল্যের (Success Story) অনন্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ সমাজে নারীরা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করলেও ‘কৃষক’ হিসেবে তাঁদের স্বীকৃতি মেলেনি। সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী কল্পনা মিশ্র, যিনি নিজের শ্রম ও উদ্যোগে আজ গ্রামে এক নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন।

কল্পনা মিশ্রর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

কৌশাম্বীর ছিমিরচা গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা প্রতিদিন ভোরে ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে নামেন। বীজ বপন থেকে ফসল কাটা—সব কাজেই তিনি নিজেই নেতৃত্ব দেন। থ্রেসার মেশিন চালিয়ে কৃষিকাজ করে তিনি দিনে প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা উপার্জন করেন। শুধু কৃষিকাজেই থেমে থাকেননি, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তিনি গ্রামবাসীদের জন্য একটি আটার কলও চালান, যা তাঁর আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ক্রমশ সম্পর্কে উন্নতি! গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি ভারত-চিন

জানা গিয়েছে, সরকারি সহায়তায় কল্পনা তাঁর ট্রাক্টরের ইঞ্জিন ব্যবহার করেই আরও একটি আটার কল স্থাপন করেছেন। ফলে একই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি বহুমুখী আয়ের পথ তৈরি করেছেন। তাঁর পরিবারে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। স্বামী অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি কর্মী হলেও সংসারের মূল দায়িত্ব কল্পনার কাঁধেই। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেন।

কল্পনার এই যাত্রার শুরু হয়েছিল উত্তর প্রদেশ মুখ্যমন্ত্রীর যুব স্ব-কর্মসংস্থান প্রকল্পের অধীনে ৫ লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে। সেই অর্থ দিয়ে তিনি একটি ট্রাক্টর কেনেন এবং আটার কল স্থাপন করেন। আজ এই উদ্যোগই তাঁকে গ্রামে স্বনির্ভর নারীর প্রতীক করে তুলেছে। পাশাপাশি তিনি ‘জয় মা দুর্গা স্বনির্ভর গোষ্ঠী’ গঠন করে গ্রামের অন্যান্য নারীদেরও আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

Kalpana Mishra's Success Story will Inspire you.

আরও পড়ুন: গত বছর সাত ! এবার আট তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু খড়গপুর আইআইটির পড়ুয়ার

জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের জেলা মিশন ম্যানেজার দিব্যাংশ সিং জানিয়েছেন, কল্পনা প্রশিক্ষণ নিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করেন এবং সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পান। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ এখন গ্রামের অন্যান্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করছে। অনেকেই ক্ষুদ্র উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফলে কল্পনার সাফল্য (Success Story) শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং গোটা অঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।