যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে নাবালকের শরীর স্পর্শ মানেই অপরাধ? POCSO মামলায় বিরাট মন্তব্য হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Kerala High Court says distinguishing between chest and breast in POCSO case is meaningless
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পকসো মামলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল হাইকোর্ট। যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও নাবালকের শরীর স্পর্শ করা মানেই অপরাধ কিনা তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি আদালত জানাল, পকসো (POCSO) আইনে দায়ের হওয়া অভিযোগের ক্ষেত্রে স্তন ও ছাতির মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে যাওয়া অর্থহীন। সম্প্রতি ১২ বছরের এক বালকের উপর হওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনার শুনানি চলাকালীন এই মন্তব্য করে কেরালা হাইকোর্ট (Kerala High Court)।

পকসো মামলায় বড় মন্তব্য হাইকোর্টের | (Kerala High Court)

কোঝিকোড়ে ১২ বছরের এক বালকের উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলার শুনানিতেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুনঃ ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কারা? ধর্মতলা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের আসল পরিচয় জানুন

রাষ্ট্রের তরফ থেকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে নির্যাতিতকে পিছন থেকে জাপটে ধরেছিলেন। এই নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়। পাল্টা অভিযুক্তের তরফে দাবি করা হয়, অভিযোগকারীর আনা ‘স্পর্শ’ ও ‘ধরার’ অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেটি পকসো আইনের ধারায় অভিযোগ হিসেবে নাও গ্রাহ্য হতে পারে।

অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি ওই বালকের ছাতি ছুঁয়েছিলেন, স্তন নয়। স্তন স্পর্শ করলে সেটি অপরাধ হতে পারে, তবে ছাতির ক্ষেত্রে কেন হবে? প্রশ্ন তোলেন অভিযুক্তের আইনজীবী। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি এ বদরুদ্দিন বলেন, যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও নাবালকের শরীর স্পর্শ করলেই সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এক্ষেত্রে স্তন ও ছাতির মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে যাওয়া অর্থহীন। অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশ্যই বিচার্য।

Kerala High Court

বিচারপতি আরও জানান, নির্যাতিতর লিঙ্গ কিংবা শরীরের আকারের চেয়ে বয়স অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দোষীর ১০ বছরের অধিক কারাদণ্ডও হতে পারে।

কয়েকদিন আগেই পকসো মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার সেই পথেই হাঁটল কেরালা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানাল, পকসো আইনে দায়ের হওয়া অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্যাতিতর স্তন ও ছাতির মধ্যে পার্থক্য খোঁজার মানে নেই। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তের উদ্দেশ্যই বিচার্য।