বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গে এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ইউপির ‘দাবাং’ এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma) এবার বাংলার ভোট ময়দানে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি আঙুল তুলে কড়া ভঙ্গিতে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন এক তৃণমূল প্রার্থীর উদ্দেশ্যে। এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কে এই কর্মকর্তা এবং তাঁর ভূমিকা ঠিক কী। পরে জানা যায়, তিনি উত্তর প্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলায় এসেছেন।
জানুন কে ইউপির এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)?
এই ঘটনার পরপরই সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের নেতারা অভিযোগ করেন, একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং এটি নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে তাঁরা ওই অফিসারের অতীত ভূমিকা ও কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। বিশেষ করে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের উদ্দেশ্যে তাঁর কথোপকথনের ভঙ্গি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে বসে যা করলেন অধিনায়ক রিয়ান পরাগ, প্রশ্নের মুখে RR শিবির
অজয় পাল শর্মার পেশাগত জীবন যথেষ্ট চমকপ্রদ। ২০১১ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার কর্মজীবনের শুরুতে একজন ডেন্টাল সার্জেন ছিলেন। পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। হাথরস, রামপুর, জৌনপুর এবং সামলির মতো জেলায় পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আইনশৃঙ্খলা) হিসেবে কর্মরত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতার জন্য পরিচিত অজয় পাল শর্মা ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবেও খ্যাত। জৌনপুরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ৫০০-রও বেশি এনকাউন্টার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে মাত্র ২২ মাসে ১৩৬টি এনকাউন্টার সংঘটিত হয়। এই অভিযানে বহু দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার ও নিহত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর এই কঠোর প্রশাসনিক ভাবমূর্তিই তাঁকে উত্তর প্রদেশে একপ্রকার ‘সিঙ্ঘম’ অফিসারের তকমা এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের কমল সোনার দাম! জানুন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাজারে হলুদ ধাতুর দর কত?
তবে বাংলার নির্বাচনী ময়দানে অজয় পালের (Ajay Pal Sharma) সাম্প্রতিক আচরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও দুঃখপ্রকাশ করেননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নির্বাচন চলাকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আরও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।












