বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম ভরসাযোগ্য নাম হল দেশের বৃহত্তম জীবন বিমা
সংস্থা LIC তথা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (Life Insurance Corporation of India) যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখে LIC একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, LIC তাদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল চাহিদা মেটাতে ফিনটেক সেক্টরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে অথবা একটি নতুন সত্তা প্রতিষ্ঠা করে ফিনটেক ব্যবসা চালু করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যেই কোম্পানির CEO এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর. দুরাইস্বামী এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করেছেন।
বড় পরিকল্পনা LIC (Life Insurance Corporation of India)-র:
দুরাইস্বামী জানিয়েছেন যে, পরিবর্তিত চাহিদা মেটাতে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে কোম্পানিটি ফিনটেক ও ইন্স্যুরটেক কোম্পানিগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এছাড়াও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী একটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে LIC এমন কিছু নির্দিষ্ট উদ্যোগে কৌশলগত বিনিয়োগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে, যা পলিসি হোল্ডারদের ফান্ডের ওপর আরও ভালো মুনাফা এনে দিতে পারে।

কোম্পানিটি বড় পরিকল্পনা করছে: তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, LIC প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কোম্পানিটি তার ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশনগুলি তৈরি করার জন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন করেছে। যেখানে বহু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ কর্মরত আছেন। তবে, আধুনিক প্রযুক্তি পরিকাঠামো এবং নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নের জন্য বহিরাগত তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারীদের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। দুরাইস্বামীর মতে, LIC তার অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি দল এবং বাহ্যিক প্রযুক্তি অংশীদার উভয়ের সক্ষমতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। সংস্থাটি বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব বা নতুন কোনও উদ্যোও ঘোষণা করতে পারে। তিনি বলেন যে, LIC-র প্রধান উদ্দেশ্য হল সংস্থাটির আইটি সিস্টেমের আধুনিকীকরণ করা এবং প্রতিযোগিতার মাঝে আরও তৎপর ও কার্যকর হয়ে ওঠা।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফের জয়ী PSG! অনুরাগীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গ্রেফতার ৪০০-রও বেশি
এদিকে, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের LIC-র আরও শেয়ার বিক্রি করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোম্পানি এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)-এর প্রস্তুতির সময় থেকেই এই ধরণের সম্ভাব্য প্রক্রিয়াগুলি বিবেচনা করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন যে, অংশীদারিত্ব বিক্রির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে এবং যখনই তা হবে, এর সফল বাস্তবায়নে LIC পূর্ণ সহযোগিতা করবে। জানিয়ে রাখি যে, ২০২২ সালে LIC-র ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং তথা IPO চালু করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে সরকার সংস্থাটিতে থাকা তার ৩.৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর আগে LIC সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন ছিল। আর. দুরাইস্বামী জানিয়েছেন, সরকার লিস্টেড কোম্পানিগুলির জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম পাবলিক শেয়ার হোল্ডিংয়ের মানদণ্ড পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে যোগ্যতা অর্জন করেও হল না অংশগ্রহণ! সতীর্থের ঈর্ষায় খুন প্রতিভাবান প্যারা-অ্যাথলিট
১০ টাকা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে: দুরাইস্বামী জানিয়েছেন যে, IPO-র পর থেকে LIC তার শেয়ার হোল্ডারদের আরও ভালো রিটার্ন দেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি, কোম্পানিটি একের বদলে এক বোনাস শেয়ার ইস্যু এবং ডিভিডেন্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। ডিরেক্টর বোর্ড ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য শেয়ার প্রতি ১০ টাকা ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছে। LIC মার্চ ত্রৈমাসিকে ২৩,৪২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। যা দেশের যেকোনও আর্থিক পরিষেবা সংস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা। বর্তমানে BSE-তে LIC-র শেয়ারের দাম হল ৪১১.৪৫ টাকা।














