বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আবহে হঠাৎই ‘লকডাউন’ শব্দটা ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে বাংলায়। পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)?
পশ্চিমবঙ্গের পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহা ফুটবল ময়দানে জনসভা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ‘লকডাউন’ প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেন, “লকডাউন করবে কি না ভাবছে। জানি না। করলে করবে। লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবে।” তিনি আরও বলেন, কোভিডের সময়েও লকডাউন ছিল, সেই পরিস্থিতিতেও তৃণমূল লড়াই করেছে এবং ভবিষ্যতেও যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
এই মন্তব্যের পর থেকেই বাংলায় ফের লকডাউন হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের কারণে দেশে তেল ও গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই এমন আলোচনা সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক আক্রমণও শানান। তিনি বলেন, “লড়াইটা কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। আমরা পাণ্ডব, বিজেপি কৌরব।” পাশাপাশি পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, আসানসোলকে নতুন জেলা করা হয়েছে, সেখানে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে এবং অন্ডাল বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে। এদিন কয়লাখনি এলাকার শ্রমিকদের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “খাদান থেকে এত কষ্ট করে কয়লা তোলা হয়, কিন্তু মুনাফা অন্য কেউ নিয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ‘চোর’ অভিযোগ নিয়েও সরব হন মমতা (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, “আমি জীবনে এক পয়সা মাইনে নিইনি, আমাকেও চোর বলা হচ্ছে। এদের ভাষা খুবই খারাপ।” ভোটার তালিকা নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রথমে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে এবং আরও বহু নাম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই তালিকা বিজেপির পার্টি অফিস থেকে তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ DA নিয়ে বড় আপডেট! পোর্টালে দেখা যাচ্ছে বকেয়া টাকা, কবে পাবেন হাতে?
এছাড়া তিনি বলেন, যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এবং বিনামূল্যে লড়াই করবে দল। দলের প্রতিনিধিরা আবেদনও সংগ্রহ করবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, এই প্রকল্প চালু থাকবে এবং বন্ধ করা হবে না। পাশাপাশি যুবসাথী ও দুয়ারে স্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজও সম্পূর্ণ করা হবে বলে তিনি জানান। এদিন এনআরসি প্রসঙ্গেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল থাকলে বাংলায় এনআরসি কার্যকর হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে তাঁর দল।












