বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল আমলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) চালু করেছে বিজেপি সরকার। নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে প্রায় তিন মাস হয়ে গেলেও বহু যোগ্য মহিলা ৩ হাজার টাকা করে পাননি বলে অভিযোগ। এই নিয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই আবহে সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর প্রশ্ন, যোগ্য-অযোগ্য বিজেপি ঠিক করবে?
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা | (Mamata Banerjee)
সোমবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম অন্নপূর্ণা যোজনা। এই প্রকল্পের যোগ্য-অযোগ্য বিচার ও ভাতার টাকা না পাওয়া নিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রেশনে ফের বড় বদল! এবার টোকেন দেখালে মিলবে বিনামূল্যে চাল-গম, নয়া নিয়ম জানুন
মমতার দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে অবধি রাজ্যের যত পরিমাণ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ মহিলার ভাতা বর্তমানে হয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে নাহলে আটকে রাখা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান একেবারে পরিষ্কার না হলেও অধিকাংশ মহিলাই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এই বিষয়ে কোনও রকম সন্দেহ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল, বর্তমানে সেগুলির উল্টো পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের শাসকদল বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটানোর চক্করে বাংলার সাধারণ মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন কিনা সেদিকে নজর দেওয়ার সময় সরকারের নেই বলে অভিযোগ করেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কোনও কঠিন শর্তের কথা বলা হয়নি। তবে সুবিধা দেওয়ার সময় জটিল ফর্ম ফিল আপ ও বিভিন্ন রকম শর্ত চাপানো হচ্ছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য, সেটা ঠিক করার অধিকার বিজেপির নেই বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্পের জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতীতে এই প্রকল্প নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এবার এই নিয়ে সুর চড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।













