রেজিস্ট্রেশন করেও পরীক্ষায় ‘অরুচি’, মাধ্যমিকে বাড়ছে ড্রপ আউটের সংখ্যা

Published on:

Published on:

many are not appearing Madhyamik examination even after registration
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক (Madhyamik) পরীক্ষা। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করার পরও পরীক্ষায় বসছেন না ৬০২৪ জন ছাত্রছাত্রী। এই পরিসংখ্যানটা পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur)। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। নবম শ্রেণীতে এই জেলা থেকে রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল মাধ্যমিকের জন্য ৬৭ হাজার ৮৮১ জন ছাত্রছাত্রীর। কিন্তু তাদের মধ্যে পরীক্ষায় বসছে ৬১ হাজার ৪৫৭ জন।

মাধ্যমিকে (Madhyamik) কেন বাড়ছে ড্রপ আউটের সংখ্যা

পূর্ব মেদিনীপুরে মাধ্যমিকের জন্য রেজিস্ট্রেশন হওয়া ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে, ছাত্র সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৫৮২ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৮৯৯ জন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হওয়া সত্ত্বেও অনেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন না। তাই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা বসছে তাদের মধ্যে, ছাত্র সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৩ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৩৪৪ জন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৬৬৪ টি বিদ্যালয় থেকে এই বছর পরীক্ষার্থীরা মাধ্যমিকে বসবে। গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার পরীক্ষার্থী বেড়েছে।

এবার মাধ্যমিকে মোট সেন্টারের সংখ্যা পূর্ব মেদিনীপুরে ১১৫ টি। তার মধ্যে মেন সেন্টার রয়েছে ৬৭ টি এবং সাব ভেন্যু সেন্টার রয়েছে আরও ৪৮ টি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার এই জেলাতে তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে এবং চারটি পরীক্ষা কেন্দ্র নতুন গঠন করা হয়েছে। এভাবে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট সাতটি নতুন পরীক্ষা কেন্দ্রে মাধ্যমিক হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের যে বিদ্যালয় গুলিতে নতুন মাধ্যমিকের সেন্টার হল এবার, সেই বিদ্যালয় গুলি হল তমলুক শহরের হ্যামিলটন স্কুল, নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবন, চণ্ডীপুরের ধান্যশ্রী কেসি হাই স্কুল, পাঁশকুড়ার পূর্ব শুকুতিয়া গোপাল কৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয়, ভগবানপুর এক নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠ, খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের কশাড়িয়া হাই স্কুল এবং পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের বাল্য গোবিন্দপুর জ্ঞানকর্ম বিদ্যাপীঠ।

আরও পড়ুন:সংসদে আজ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ, ভোটের মুখে পাঁচ রাজ্যের ঝুলিতে কি কি থাকছে সেদিকে নজর দেশের

পরীক্ষায় বসা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই রোজগারের জন্য ভিন রাজ্য যেমন উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে চলে গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে ডেকে পাঠালে অনেকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে কারণ জানাচ্ছে, অনেকে হয়তো জানাচ্ছেন না। অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে বিয়ে করে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে মাধ্যমিকে ড্রপ আউটের সংখ্যা বেড়েছে।

আরও পড়ুন:শীঘ্রই সরকারি কর্মীদের পোয়া বারো! DA নয়, প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আসছে খবর…

many are not appearing Madhyamik examination even after registration

তমলুকের কেলোমাল সন্তোষিনী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি জানান নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই অনেক পড়ুয়া রোজগারের জন্য দোকানে কাজে ঢুকে যাচ্ছে অথবা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে, ফলে ড্রপ আউট বাড়ছে। তমলুক ব্লকের কুলবেড়্যা ভীমদেব আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বেরা জানান, স্কুলে দশম শ্রেণীর ছয় সাত জন ছাত্র ভিন রাজ্যে চলে গেছে কাজের জন্য, সেখান থেকে তিনি তাদের মাধ্যমিকে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন আর একজন ছাত্রী যিনি প্রেম করে বিয়ে করেছেন, তাকেও পরীক্ষায় বসানোর চেষ্টা চলছে। যা দেখা যাচ্ছে মূলত রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবের জন্য ভিন রাজ্যে কাজে চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যে কারণে মাধ্যমিকে এই ড্রপ আউট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে কম বয়সে বিয়ে করার বা বিয়ে দিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রবণতাও এর পিছনে অন্যতম কারণ।