বাংলাহান্ট ডেস্ক: আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে নয়া উপায় আনল মেটা (Meta)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) এখন শুধু তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ নানা ব্যক্তিগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা একাকীত্বের কথা চ্যাটবটের (ChatBot) সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির পথে হাঁটছে মেটা। সংস্থাটি এমন একটি এআই-ভিত্তিক ফিচারের পরীক্ষা চালাচ্ছে, যার মাধ্যমে ইনস্টাগ্রাম এবং মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে যদি কোনও কিশোর বা কিশোরী আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তাহলে সেই সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এর মূল উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, বরং সময়মতো সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলেই সতর্ক করবে Meta!
মেটার (Meta) জানানো তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এআই কোনও কথোপকথন শনাক্ত করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথমে মানব পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর প্রয়োজন মনে হলে তবেই সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের কাছে বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি কথোপকথনে আত্মহত্যার প্রসঙ্গ সরাসরি না থাকলেও, যদি ভাষা বা আচরণ থেকে আত্মক্ষতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত মেলে, তাহলেও সতর্কতার নীতি অনুসরণ করা হবে। সংস্থার মতে, ভুল সিদ্ধান্ত এড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: রেলের কম্বল-চাদর চুরিতে ক্ষতি ১০৪ কোটি! এবার QR কোড-সিসিটিভিতে কড়া নজরদারি
শুধু অভিভাবকদের সতর্ক করাই নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে মেটা। সংস্থাটি এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কোনও ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিক আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে যথেষ্ট ইঙ্গিত মিললে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেও সতর্ক করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা কেবল কিশোর-কিশোরীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ, যদি এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং মানব পর্যালোচনার পর মনে হয় যে কোনও ব্যক্তি অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিষেবাকে অবহিত করার সুযোগ রাখা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের পরিবর্তে চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। একাকীত্ব, মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত সংকটের মতো বিষয় নিয়ে এআই-এর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের প্রবণতাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সামনে নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই সম্ভাব্য আত্মক্ষতির মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতি আগে থেকেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন: জলের নিচেও আর নেই রেহাই! শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শিকারে ভারতীয় নৌবাহিনী পেল Seahawk হেলিকপ্টার
প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে এই নতুন নিরাপত্তা ফিচারের পরীক্ষা চালানো হবে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। কোনও সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এআই-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নেওয়া হবে না; প্রতিটি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে মানব পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক থাকবে। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার যেখানে মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে (Meta)।













