একাধিক প্রতিবন্ধকতা সামলে অদম্য জেদে ব্যবসায় বাজিমাত মীরার! গড়েছেন ৮,৩০০ কোটির সাম্রাজ্য

Published on:

Published on:

Mira Kulkarni's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়োয়ালের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ ভারতের অন্যতম সফল (Success Story) মহিলা উদ্যোক্তার তকমা অর্জন করেছেন মীরা কুলকার্নি। মাত্র ২ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তাঁর আয়ুর্বেদিক স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘ফরেস্ট এসেনশিয়ালস’ বর্তমানে প্রায় ৮,৩০০ কোটি টাকার সংস্থা হিসেবে পরিচিত। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি আস্থার জোরে তিনি এমন এক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যা আজ আন্তর্জাতিক বাজারেও সমানভাবে সমাদৃত। মীরার এই সাফল্যের গল্প শুধু ব্যবসায়িক উত্থানের কাহিনি নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

মীরা কুলকার্নির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

জীবনের শুরুটা অবশ্য মোটেই সহজ ছিল না। অল্প বয়সেই বিয়ে হলেও সংসার জীবনে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্বামীর ব্যবসায় মন্দা এবং ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন মীরা কুলকার্নি। এরপর একক মা হিসেবে সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমাকে জীবনের নতুন অধ্যায় একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল। সামনে কী অপেক্ষা করছে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না।” কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকেই শক্তিতে পরিণত করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: গিলগিট-বালটিস্তানে হতে চলেছে নির্বাচন! সন্ত্রাস ছড়াতে জঙ্গি সংগঠনগুলির দ্বারস্থ পাক সেনা

চেন্নাইয়ের স্টেলা মারিস কলেজ থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন মীরা। উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়োয়াল অঞ্চলে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই আয়ুর্বেদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল গভীর। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও প্রাকৃতিক উপাদানের প্রতি আগ্রহ তাঁকে দীর্ঘদিন বৈদ্য এবং আধুনিক প্রাণরসায়নবিদদের সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০০০ সালে ৪৫ বছর বয়সে তিনি ‘ফরেস্ট এসেনশিয়ালস’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক জ্ঞানকে আধুনিক বিলাসবহুল পণ্যের রূপ দেওয়া। নিজের বাড়ির রান্নাঘরে হাতে তৈরি সাবান ও তেল তৈরি করে ছোট পরিসরে ব্যবসার সূচনা করেছিলেন তিনি। গুণমান ও বিশুদ্ধতার কারণে সেই পণ্য দ্রুতই গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

ব্যবসার মোড় ঘুরে যায় যখন আন্তর্জাতিক হোটেল সংস্থা হায়াত রেজেন্সি তাদের হোটেলগুলির জন্য ফরেস্ট এসেনশিয়ালসের সাবান অর্ডার করে। শুধু তাই নয়, অতিথিদের ব্যবহারের জন্য হোটেলের প্রত্যেক রুমে এই ব্র্যান্ডের পণ্য রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এই সুযোগই সংস্থার জন্য বড় ব্রেকথ্রু হয়ে ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে আরও বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল ও রিসর্ট চেইনের কাছ থেকে অর্ডার আসতে শুরু করে। পণ্যের মান, ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনা ফরেস্ট এসেনশিয়ালসকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

সংস্থার ধারাবাহিক সাফল্য (Success Story) আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য শিল্পের নজরও কেড়ে নেয়। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত কসমেটিক্স সংস্থা এস্টি ফরেস্ট এসেনশিয়ালসে সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব গ্রহণ করে। এই অংশীদারিত্ব ব্র্যান্ডটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী অবস্থান এনে দেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংস্থার ১৩০টিরও বেশি স্টোর রয়েছে এবং ১২০টিরও বেশি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি হয়। স্কিনকেয়ার, হেয়ারকেয়ার, বডি কেয়ার এবং ওয়েলনেস পণ্যের বিস্তৃত সংগ্রহ নিয়ে ফরেস্ট এসেনশিয়ালস এখন আয়ুর্বেদভিত্তিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে অন্যতম।

Mira Kulkarni's Success Story will amaze you

আরও পড়ুন: নেই পানীয় জল! রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কটও, পাকিস্তানে প্রতিবাদে রাস্তায় জনতা

বর্তমানে সংস্থার বার্ষিক আয় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা এবং বাজারমূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৮,৩০০ কোটি টাকায়। মীরা কুলকার্নির ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও আনুমানিক ১,২৯০ কোটি টাকা বলে জানা যায়। তবে তাঁর প্রকৃত সাফল্য শুধু আর্থিক অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, ভারতের ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক জ্ঞান ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিশ্ববাজারে সফলভাবে (Success Story) প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মীরা কুলকার্নির এই যাত্রা আজ অসংখ্য নারী উদ্যোক্তার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।