বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে আত্মনির্ভরতার নয়া নজির গড়ছে ভারত (India)। সেই রেশ বজায় রেখেই ভারত এবার ইলেকট্রনিক্স সেক্টরেও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জানিয়ে রাখি যে, এখনও পর্যন্ত ভারত প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড তথা PCB-র জন্য সম্পূর্ণরূপে অন্যান্য দেশগুলির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এদিকে, PCB হল মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে, এবার এগুলি ভারতেই বৃহৎ পরিসরে তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গত শনিবার স্পষ্ট করেছেন যে, এই দেশীয় উৎপাদনের ফলে ভারতের বছরে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। মূলত, উত্তরপ্রদেশের জেওয়ার এই নতুন বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে। যেখানে উন্নত সার্কিট বোর্ড তৈরি করা হবে।
ভারতের (India) এই রাজ্যে তৈরি হবে কম্পিউটার ও মোবাইলের সার্কিট বোর্ড:
আমদানি নির্ভরতার অবসান: পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে, ভারত বিশ্বে ষষ্ঠ বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স রফতানিকারী দেশ। সরকারের লক্ষ্য হল এই অবস্থানকে আরও প্রসারিত করে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান অর্জন করা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন যে ভারতীয় শিল্প এখন আর শুধু অ্যাসেম্বলিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দ্রুত ‘ডিপ ম্যানুফ্যাকচারিং’ অর্থাৎ মৌলিক উপাদান তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেকোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান হল PCB। এটিই সেই অংশ যার মাধ্যমে একটি ডিভাইসের বিভিন্ন উপাদান একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। ২০ থেকে ২২ লেয়ারের অত্যন্ত উন্নত PCB এখন ভারতেই তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, যে উপাদানগুলি আগে আমদানি করা হত, সেগুলি এখন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে সারা বিশ্বের জন্য এখানেই তৈরি করা হবে। ভারতে উপাদানগুলি তৈরি করলে ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। যা দীর্ঘমেয়াদে সরাসরি ভারতীয় গ্রাহকদের উপকৃত করবে।

নতুন ইলেকট্রনিক্স কেন্দ্র হতে চলেছে জেওয়ার: উল্লেখ্য যে, এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে, উত্তরপ্রদেশের জেওয়ারকে একটি প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গত শনিবার যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (YEIDA) এলাকায় তৈরি হতে চলা একটি নতুন ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ক্লাস্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এখানে, কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাম্বার এন্টারপ্রাইজেস দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি কোরিয়া সার্কিট (KCC)-এর সঙ্গে ৩,২৫০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বড় জয়েন্ট ভেঞ্চার চালু করছে।
আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! বিশ্বকাপের আবহেই কেপ ভার্দের অধিনায়কের বিরুদ্ধে উঠল ধর্ষণের অভিযোগ, চলছে তদন্ত
এই অত্যাধুনিক প্ল্যান্টটি বিপুল পরিমাণে হাই-ডেনসিটি ইন্টারকানেক্ট (HDI) থেকে শুরু করে PCB, ফ্লেক্সিবল PCB এবং সেমিকন্ডাক্টর সাবস্ট্রেট উৎপাদন করবে। এছাড়াও, অ্যাম্বার এন্টারপ্রাইজেস ৩,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১০০ একর জমির ওপর আরও একটি বৃহৎ কারখানা স্থাপন করছে। এই দ্বিতীয় ইউনিটটি প্রাথমিকভাবে রুম এয়ার কন্ডিশনারের জন্য কপার ক্ল্যাড ল্যামিনেটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করবে।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে সঠিক দক্ষতায় করুন বিনিয়োগ! সাহায্য করবে দীপাঞ্জনের এই কোর্স, হবেন লাভবান
নজরে থাকবে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ও: এছাড়াও, শিল্প উন্নয়নের এই প্রচেষ্টায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। অ্যাম্বারের মতে, উভয় উৎপাদন ইউনিটই ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ অর্থাৎ ZLD প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে। এর অর্থ হল, কারখানা থেকে নির্গত সমস্ত জল সম্পূর্ণরূপে পুনর্ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে, এবং এটিও নিশ্চিত করা হবে যে ভবিষ্যতে এই বৃহৎ শিল্প উদ্যোগটির কোনও নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব থাকবে না। জানিয়ে রাখি যে, এই ২ টি মেগা প্রকল্পের সূচনা শুধু দেশের প্রযুক্তিগত শক্তিই বৃদ্ধি করবে না, বরং নতুন স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই কারখানাগুলিতে প্রায় ৩,০০০ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে।













