বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২ দিনের বঙ্গ সফরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত, শুক্রবার যখন শিলিগুড়িতে পৌঁছন তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর সেই নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এরপরই ধর্না মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে একটি মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই প্রসঙ্গেই সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই গোটা ঘটনাটিকে দেশের “সাংবিধানিক প্রধানের প্রতি অসম্মান” বলে উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে পোস্ট করে তিনি বলেন, এই ঘটনায় রাজ্য সরকার সমস্ত সীমা পার করে ফেলেছে।
বঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) ‘অসম্মান’-এ গর্জে উঠলেন মোদী
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের জন্য উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানেই শনিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেন, রাজ্যে আসার পর তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। যদিও এই বিষয়ে তেমন অভিযোগ না তুললেও তিনি মন্তব্য করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও তাঁরই মতো বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় আমার উপর রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি এবং তাঁর কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ‘রাশিয়ার তেল কিনতে কারও অনুমতি লাগবে না’, আমেরিকার ‘ছাড়’ বিতর্কে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রের
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক’। তাঁর মতে, গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। মোদি আরও বলেন, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা দেশের রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্য দেশের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। তিনি শাসকদলকে দায়ী করে বলেন, “রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী”।
এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত।
জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা… https://t.co/XGzwMCMFrT
— Narendra Modi (@narendramodi) March 7, 2026
এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সাঁওতাল জনজাতি ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং সেই পদের মর্যাদা সব সময় রক্ষা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে এবং এমন ঘটনা আর ঘটবে না।
আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ HDFC ব্যাঙ্কের! নেওয়া হল এমন সিদ্ধান্ত… লাভবান হবেন লক্ষ লক্ষ গ্রাহক
অন্যদিকে এই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারই তিনি ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বলেন, রাষ্ট্রপতির ওই অনুষ্ঠানসূচী সম্পর্কে তিনি আগে থেকে জানতেন না এবং সেটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠানও ছিল না। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে এই ইস্যুতে “রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বিজেপি”। তিনি জানান, এই মুহুর্তে তিনি ধরনায় বসে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করছেন এবং মানুষের স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এই ঘটনার পর রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।












