বাংলাহান্ট ডেস্ক: চট্টগ্রাম (Chattogram) কারাগারে বন্দি ছেলেকে একবার দেখার ইচ্ছা নিয়েই দিন কাটছিল তাঁর। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হল না। বৃহস্পতিবার সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন হিন্দু সাধু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের (Chinmoy Krishna Das) মা সন্ধ্যা রানি ধর। বেশ কয়েক মাস ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে গত মঙ্গলবার হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আশ্রমের সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। পরিবারের কাছে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, ছেলের আশ্রমেই যেন জীবনের শেষ সময়টা কাটাতে পারেন।
প্রয়াত চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmoy Krishna Das) মা
চিন্ময়কৃষ্ণের (Chinmoy Krishna Das) আইনজীবী তথা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সন্ধ্যা রানি নিজেই চিকিৎসকদের বলেছিলেন, তিনি বুঝতে পারছেন তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। তাই হাসপাতালের বদলে ছেলের আশ্রমে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে চেয়েছিলেন। চিকিৎসকেরাও তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে আশ্রমে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। কিন্তু সেখানে থাকলেও ছেলের সঙ্গে তাঁর আর দেখা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চিন্ময়কৃষ্ণ কারাগারে থাকায় ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় ছিলেন সন্ধ্যা রানি। ছেলের অসুস্থতা, জামিন না হওয়া এবং তাঁর দীর্ঘ কারাবাস তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই মানসিক চাপের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে তাঁর স্ট্রোকও হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অধ্যাপকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! বিধানসভায় নয়া বিল, শাসক-বিরোধীর তুমুল সংঘাত
এদিকে মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য চিন্ময়কৃষ্ণকে কি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে? অপূর্ব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মায়ের শেষকৃত্য এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ছেলেকে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হবে। শুধু অন্ত্যেষ্টিতে উপস্থিত থাকা নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থেকে মায়ের শেষকাজ সম্পূর্ণ করার অনুমতিও চাওয়া হবে। এখন সেই আবেদন প্রশাসন কীভাবে বিবেচনা করে, সেদিকেই নজর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা চিন্ময়কৃষ্ণের ক্ষেত্রে এই অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
চিন্ময়কৃষ্ণ বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, হত্যা এবং অস্ত্র আইনের মতো ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ছয়টি মামলার মধ্যে চারটিতে বাংলাদেশ হাই কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে বলে আইনজীবী পক্ষের দাবি। বাকি দুটি মামলার শুনানি এখনও চলছে। পাশাপাশি, জামিনের কয়েকটি আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে সব মামলায় আইনি জটিলতা না কাটলে তাঁর নিয়মিত কারামুক্তি কতটা সম্ভব, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: সামনেই ব্রিকস ও পুতিন সফর! উদ্বোধনের পর ভারতের এই বিমানবন্দরে নামল প্রথম বিদেশি সামরিক বিমান
অন্যদিকে, অপূর্ব ভট্টাচার্যের দাবি, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে চিন্ময়কৃষ্ণের (Chinmay Krishna Das) নিজের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। তাঁর লিভার সিরোসিস হয়েছে, ওজন কমেছে এবং তিনি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের গুরুতর অসুস্থতার খবরও এতদিন তাঁকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি না হয়। শেষপর্যন্ত মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ আর হল না। এখন ছেলের সামনে শুধু মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন। প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হলে সেই আবেদন মঞ্জুর হয় কি না, সেটাই আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।













