ইনস্টাগ্রামে রিল দেখে পান অভিনব আইডিয়া! আজ ৩ কোটির সাম্রাজ্য গড়েছেন ২৪ বছরের নাদিম

Published on:

Published on:

Nadeem Iqbal's Success Story will surprise you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাবার ইচ্ছেয় ডাক্তারি না পড়ে, ছেলে নিজের ইচ্ছেয় নিজের পরিশ্রমে ব্যবসা করে সাফল্যের (Success Story) চূড়ায় পৌঁছায়। দেশের মোট মাখানা উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশই হয় বিহারে। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী চাষ ও অসংগঠিত পাইকারি ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই পুষ্টিকর খাদ্যশস্য। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাখানা এখন আর শুধু ঘরোয়া খাদ্য নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী ‘সুপারফুড’ ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন বিহারের কাটিহারের ২৪ বছর বয়সি তরুণ উদ্যোক্তা নাদিম ইকবাল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘নেচার’স মাখানা’ অল্প সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল বিপ্লবকে হাতিয়ার করে মাসিক প্রায় ৩ কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছে।

নাদিমের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

নাদিমের এই সাফল্যের শুরু পারিবারিক পরিসর থেকেই। তাঁর বাবা মুহাম্মদ রইস গত তিন দশক ধরে কাটিহারে মাখানার পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ব্যবসা ছিল পুরোপুরি অসংগঠিত এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর নির্ভরশীল, ফলে লাভের বড় অংশই চলে যেত মাঝখানের হাত বদলে। নয়ডার একটি কলেজ থেকে বিবিএ পড়ার সময় নাদিম তাঁর কলেজ প্রকল্পের জন্য মাখানা বাজার নিয়ে গবেষণা করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মাখানার চাহিদা এবং সম্ভাবনা বিপুল। পরিবারের ইচ্ছা ছিল তিনি চিকিৎসক হবেন, কিন্তু নাদিম বেছে নেন ব্যবসার পথ।

আরও পড়ুন: আচমকাই পরিকল্পনায় বদল! ভারতের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে কী তৈরি করতে চলেছে বাংলাদেশ?

২০২৪ সালে ‘নেচার’স মাখানা’ চালু করার মাধ্যমে নাদিম তাঁর বাবার দীর্ঘদিনের ব্যবসাকে একটি সংগঠিত B2B স্টার্টআপে রূপান্তর করেন। তিনি সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে কাটিহারের ৫০ জনেরও বেশি কৃষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। কাঁচা মাখানাকে ভোজ্য পণ্যে রূপান্তরের জন্য তৈরি হয় প্রায় ১০০ জনের একটি দল। বাবার কারখানাতেই প্রথমবার মাখানার গ্রেডিং বা আকার অনুযায়ী বাছাই প্রক্রিয়া চালু হয়, যা বাজারে গুণমানের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। দিল্লির খারি বাওলিতে গুদাম খুলে নাদিম সরাসরি বড় ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক সংস্থার কাছে পৌঁছাতে শুরু করেন।

প্রথমদিকে মাসিক ব্যবসার অঙ্ক ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা। তবে দেশজুড়ে বিস্তারের জন্য নাদিম ভরসা রাখেন সোশ্যাল মিডিয়ার উপর। ইনস্টাগ্রামে মুখ না দেখিয়ে মাখানা সাজানো ও প্যাক করার সহজ ভিডিও রিল পোস্ট করতে শুরু করেন তিনি। মাত্র ৫০০ টাকার বিজ্ঞাপন বাজেটেই সেই রিলগুলি বিপুল সাড়া ফেলে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে মাসে ৭ থেকে ৮ লক্ষ ভিউ হয় এবং প্রতি ১০ হাজার ভিউয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক ব্যবসায়িক কল আসে। এর ফলে ১৩টিরও বেশি রাজ্যে নতুন ক্লায়েন্ট তৈরি হয়েছে।

Nadeem Iqbal's Success Story will surprise you.

আরও পড়ুন: ফের বাজিমাত আদানি গ্রুপের! ভারতেই তৈরি হবে বিমান, ব্রাজিলের এই সংস্থার সঙ্গে সম্পন্ন হল চুক্তি

আজ ‘নেচার’স মাখানা’ মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার ব্যবসা করছে। সংস্থাটি শুধু নিজস্ব ব্র্যান্ডে মাখানা বিক্রি করছে না, পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার জন্য হোয়াইট লেবেলিং পরিষেবাও দিচ্ছে। নাদিম মনে করেন, তাঁর এমবিএ পড়াশোনার বাস্তব প্রয়োগ ঘটছে এই উদ্যোগের মাধ্যমেই। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিতে কাটিহারের একটি ছোট উদ্যোগ কীভাবে কাশ্মীর থেকে গুজরাট পর্যন্ত বড় ব্র্যান্ডের পছন্দ হয়ে উঠেছে, তা দেখে আজও বিস্মিত নাদিমের বাবা।