বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের দিনে (Assembly Election 2026) সাধারণ মানুষের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ যেখানে সবচেয়ে বড় অধিকার। সেখানে প্রশাসনিক বিভ্রাট কীভাবে ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে, তারই এক উদাহরণ সামনে এল বোলপুরে। ট্রাইব্যুনালের রায় ও সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী।
নন্দলাল বসুর নাতির ভোট (Assembly Election 2026) দেওয়ার ব্যবস্থা
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বিধানসভা ভোটের প্রথম দফায় ভোট চলছে বোলপুরে। এদিন বুথে পৌঁছেছিলেন প্রবীণ দম্পতি। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অনুপস্থিত। বিষয়টি জানার পর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সংক্রান্ত নথি দেখান, যেখানে তাঁদের ভোটাধিকার স্বীকৃত ছিল। তবুও অভিযোগ, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সিউড়ির জেলা প্রশাসনের থেকে অনুমতিপত্রও নিয়ে আসতে বলা হয়।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই নির্দেশ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় হতাশ হয়েই বাড়ি ফেরেন তাঁরা। এরপর বিষয়টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের নজরে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিশনের তরফে থেকে জানানো হয়,”রিটার্নিং অফিসারের বোঝার ভুলের কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক হয়রানি হয়েছে।” এই ভুল সংশোধন করে দম্পতিকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে বুথে এসে ভোট দিতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। সেই কারণেই তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। যদিও সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে থেকে যায়। পরে ট্রাইব্যুনালের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও সেই তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : প্রথম দফার ভোটের দিনই তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
তবে এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শুধুমাত্র উচ্চ আদালতের নির্দেশই যথেষ্ট নয়,তার সঠিক বাস্তবায়নও সমানভাবে জরুরি। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় সমস্যার সমাধান হলেও ভবিষ্যতে এমন বিভ্রাট এড়াতে প্রশাসনিক স্তরে আরও দক্ষতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।













