বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। এই আবহেই বিদায়ী ভাষণে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। শপথগ্রহণের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খোলা সমুদ্রসীমা কেবল ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি উন্মুক্ত দ্বার। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
তারেকের শপথের আগে ইউনূসের (Mohammed Yunus) ভাষণে নতুন বিতর্ক!
ভাষণে ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি নেপাল, ভুটান এবং ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চল সম্মিলিত উদ্যোগে এগোতে পারে। তবে লক্ষণীয়, তিনি সেভেন সিস্টার্স যে ভারতের অংশ, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এই প্রসঙ্গেই সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বক্তব্যটি কেবল অর্থনৈতিক প্রস্তাব নাকি এর মধ্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিতও রয়েছে।
আরও পড়ুন: শপথ গ্রহণের আগেই অ্যাকশন তারিক রহমানের! হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় সাসপেন্ড ২ নেতা
এর আগেও চিন সফরের সময় ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘ল্যান্ডলকড’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, বাংলাদেশই সেই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের ‘গার্ডিয়ান’। তিনি চিনকে এই অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নেপালের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন। বিদায়ী ভাষণে অনুরূপ বক্তব্য পুনরাবৃত্ত হওয়ায় ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা যায়। সীমান্ত হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং তিস্তা জলবণ্টন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ সামনে আসে। ইউনুসের চীন সফর ও সেখানকার মন্তব্য ভারতে সমালোচনার ঝড় তোলে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সহ একাধিক ভারতীয় নেতা এই বক্তব্যকে আক্রমণাত্মক বলে মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: পরপর বাণিজ্যিক চুক্তিতে বাজিমাত ভারতের! কীভাবে মিলছে সাফল্য? জানালেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী
ভারতের বিদেশমন্ত্রকও সতর্ক সুরে প্রতিক্রিয়া জানায়। যদিও বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, ইউনূসের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা, কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নয়। নতুন সরকারের শপথের মুখে এই বিতর্ক দুই দেশের সম্পর্ককে কোন পথে নিয়ে যায়, তা নিয়ে এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।












