বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত বার্তা থাকলেই কোনও দেশের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে—সংবাদসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর কথায়, গত এক দশকে ভারতের ধারাবাহিক নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সাফল্য এসেছে। আগে যেখানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগোত না, এখন সেখানে ভারত একের পর এক চুক্তি স্বাক্ষর করছে।
পরপর কিভাবে সফলভাবে ভারত বাণিজ্য চুক্তি করছে জানালেন মোদি (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রী জানান, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-র সঙ্গে আলোচনাসহ সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ভারত মোট নয়টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যাকে তিনি ‘সকল চুক্তির জননী’ বলে উল্লেখ করেন। এই এক চুক্তির মাধ্যমেই একযোগে ২৭টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা গড়ে উঠেছে। অন্যান্য চুক্তি মিলিয়ে বর্তমানে ৩৮টি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন: শপথ গ্রহণের আগেই অ্যাকশন তারিক রহমানের! হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় সাসপেন্ড ২ নেতা
মোদীর বক্তব্য, অতীতে বিশেষত ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) আমলে বহু আলোচনা শুরু হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাঁর দাবি, এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে সংস্কারের পথে এগিয়েছে দেশ। “আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল রিফর্মের প্রতি, এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলেই আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে বলেও মত প্রধানমন্ত্রীর।
চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে মোদী বলেন, এটি নিছক বার্ষিক হিসাবপত্র নয়, বরং ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের রূপরেখা। তাঁর মতে, গত ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক লাভের বদলে দীর্ঘমেয়াদি দেশ গঠনের দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। “এই বাজেট রিফর্ম এক্সপ্রেসের গতি আরও বাড়াবে,”—বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দ্বাদশ শ্রেণিতে ‘ফেল’, সাইকেলে বিক্রি করতেন দুধ! অদম্য জেদেই IPS হয়ে নজির গড়লেন উমেশ
প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পর কেন্দ্র সাত লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ শুধু নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও উল্লেখ করেন মোদী।












