বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রফেশনাল ট্যাক্সের (Professional Tax) নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। আয়ের পরিমাণ এবং পেশার ধরন অনুযায়ী এবার নতুন করে সাজানো হয়েছে প্রফেশনাল ট্যাক্সের কাঠামো। নবান্নের তরফে প্রকাশ করা সংশোধিত তালিকায় যেমন কিছু ক্ষেত্রে করের বোঝা কমেছে, তেমনই একাধিক নতুন পেশাকেও করের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্বাধীন পেশার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের ক্ষেত্রেই বদল আসতে চলেছে।
প্রফেশনাল ট্যাক্সে (Professional Tax) নয়া পরিবর্তন সরকারের
রাজ্যের অর্থ দফতরের সচিব সঞ্জয় বনশলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কর কাঠামোর বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তবে সব করদাতার ক্ষেত্রে একই সময়ে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে না। চাকরিজীবী এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি বাণিজ্যিক পেশার জন্য সংশোধিত নিয়ম চালু হবে চলতি বছরের ১ লা অক্টোবর থেকে। ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য স্বাধীন পেশার ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার দিন ধার্য হয়েছে ২০২৭ সালের ১লা এপ্রিল।
নতুন কর ব্যবস্থায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে। মাসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীদের আর প্রফেশনাল ট্যাক্স দিতে হবে না। অর্থাৎ, করমুক্ত আয়ের সীমা আগের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা পেরোলেই পেশা করের আওতায় আসতে হত। ২০ হাজার টাকার সীমা পেরোলেই অবশ্য কর দিতে হবে।
জানা গেছে, মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হলে করের পরিমাণ ১০০ টাকা। ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে তা হবে ১৪০ টাকা। মাসিক আয় ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকলে দিতে হবে ১৭০ টাকা। আর মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি আয় করা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২০৮ টাকা পেশা কর।
শুধু চাকরিজীবী নয়, স্বাধীনভাবে পেশাগত কাজ করা ব্যক্তিদের জন্যও বদলানো হয়েছে করের কাঠামো। এখানে মাসিক আয়ের বদলে হিসাব করা হবে বছরের মোট আয় ধরে। বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করলে কোনও পেশা কর লাগবে না। আয় ২.৫ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে বার্ষিক কর হবে ১ হাজার টাকা। ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা আয়ে দিতে হবে ২ হাজার টাকা। তবে ২০ লক্ষ টাকার বেশি বার্ষিক আয় হলে করের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে আড়াই হাজার টাকা। ব্যবসার ক্ষেত্রেও থাকছে করমুক্ত টার্নওভারের সীমা। পণ্য কিংবা পরিষেবা বিক্রির ব্যবসায় বছরে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হলে পেশা কর দিতে হবে না। অর্থাৎ, তুলনামূলক ছোট ব্যবসাগুলিকে নতুন কাঠামোয় কিছুটা ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসা ও পেশার জন্য আলাদা করে এককালীন কর নির্ধারণ করেছে সরকার।
বছরে ২.৫ হাজার টাকা করে পেশা কর দিতে হবে শপিং মল ও মাল্টিপ্লেক্সের দোকান, এসি রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার, জিম, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং পেট্রোল পাম্পের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। বিভিন্ন কোম্পানির ডিরেক্টর এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় থাকছেন। তবে সংশোধিত তালিকার সবচেয়ে বড় সংযোজনগুলির মধ্যে রয়েছে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের এবার নির্দিষ্ট হারে পেশা কর দিতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রযোজক, অনলাইন এডুকেটর এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির মালিকদের ক্ষেত্রেও।

আরও পড়ুন : মিলবে বর্ধিত DA, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে শীঘ্রই
নতুন তালিকা প্রকাশের পরেই অবশ্য মতামত জানানোর সুযোগ রেখেছে রাজ্য সরকার। সংশোধিত কর কাঠামো নিয়ে কারও আপত্তি কিংবা কোনও পরামর্শ থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে তা সরকারের কাছে জানানো যাবে। সেই সময়সীমার পরেই চূড়ান্তভাবে নতুন কাঠামো কার্যকর করার পথে এগোবে প্রশাসন।নতুন নিয়মে একদিকে যেমন কম আয়ের বেতনভোগী ও ছোট ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন, তেমনই নতুন যুগের একাধিক পেশা প্রথমবারের মতো পেশা করের আওতায় আসছে। আগামী দিনে সংশোধিত এই কাঠামো রাজ্যের কর ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।













