চিনের সাহায্যের মহাকাশে তৎপরতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান! স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নজর রয়েছে ভারতের দিকেও

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পাকিস্তানের (Pakistan) মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক দাবি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে পাকিস্তান অন্তত ছ’টি আর্থ-অবজ়ারভেশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এই উপগ্রহগুলিকে এমন এক বিশেষ কক্ষপথে, অর্থাৎ ‘সান-সিনক্রোনাস অরবিট’-এ স্থাপন করা হয়েছে, যা পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশের উপর নিয়মিত ও নির্ভুল নজরদারির জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ছ’টি উপগ্রহ মিলিয়ে প্রতি দু’দিনে অন্তত একবার ভারতের বিভিন্ন অংশের উপর নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ঘিরে নিরাপত্তা ও কৌশলগত মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এবার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভারতের ওপর নজর রাখছে পাকিস্তান (Pakistan)

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নজরদারির লক্ষ্য শুধুমাত্র ভারত নয়। আফগানিস্তান, চিন, ইরান এবং উত্তর ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশও এই পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের সামরিক প্রস্তুতি, সীমান্তবর্তী কার্যকলাপ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, নৌবাহিনীর গতিবিধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে চলাচলকারী জাহাজের উপর নজর রাখাই পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয়, আধুনিক আর্থ-অবজ়ারভেশন প্রযুক্তির সাহায্যে ছদ্মবেশে বা ক্যামোফ্লাজ করে রাখা সামরিক সম্পদও শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে এই উপগ্রহগুলি কেবল বেসামরিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নয়, সামরিক কৌশলগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: দিদির প্রতি ভালোবাসা অটুট, তবু নতুন সরকারের পাশে! নীরবতা ভেঙে কী বললেন শতাব্দী রায়?

মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মাসের মধ্যে পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচির এই দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, এত অল্প সময়ে পরপর একাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথে সেগুলিকে সফলভাবে স্থাপন করার ক্ষেত্রে চিনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা থাকতে পারে। ইসরোর এক প্রাক্তন আধিকারিক মন্তব্য করেছেন, যে দেশ দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ প্রযুক্তিতে সীমিত সক্ষমতা দেখিয়েছে, তাদের পক্ষে হঠাৎ এত দ্রুত উন্নতি করা স্বাভাবিক নয়। ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন ফ্ল্যাগ অফিসার সুরিন্দর পিল্লাইয়ের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ বলেই মনে হচ্ছে। পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকোর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ সেই ধারণাকেই আরও জোরদার করছে।

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে সান-সিনক্রোনাস অরবিটের অন্যতম সুবিধা হল, একটি উপগ্রহ প্রতিবার প্রায় একই সময়ে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। ফলে কোনও এলাকায় সামান্য পরিবর্তন ঘটলেও তা সহজেই ধরা পড়ে। সূর্যের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার কারণে এই ধরনের কক্ষপথ পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। মার্কিন সংস্থা ‘কমস্পক’-এর বিশ্লেষণেও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের নতুন উপগ্রহগুলির বিশেষ নজর রয়েছে ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলগুলির উপর, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অংশ পড়ে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর কাশ্মীর ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাবার সঙ্গে বেচতেন সবজি, আজ হয়েছেন CA, কোটি টাকার বাড়ির মালিক অভিষেক

যদিও পাকিস্তানের (Pakistan) তরফে এই উপগ্রহগুলিকে কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবুও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে আধুনিক যুগে বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের মধ্যে ব্যবধান ক্রমশ কমে আসছে। স্পেস স্ট্র্যাটেজি বিশেষজ্ঞ অশ্বিনপ্রসাদ রাওয়ের মতে, বর্তমানে যে প্রযুক্তির উপগ্রহ তৈরি হচ্ছে, সেগুলি সহজেই নজরদারির কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক উদ্দেশ্যের কথা বললেও সেই তথ্য সামরিক বিশ্লেষণে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাঁর মতে, ভারতকে এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজস্ব মহাকাশ নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে, কারণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে মহাকাশই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।