এনআরএস হাসপাতালে নরসের নার্সের রহস্য মৃত্যু! কোন পথে তদন্ত? জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Updated on:

Updated on:

Dr Sharadwat Mukherjee on NRS Hospital Nurse Death
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বুধবার রাতে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে (NRS Hospital) কর্তব্যরত অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু (Suspecious Nurse Death) হয়েছে, ওই হাসপাতালেরই নার্স রূপালী বর্মনের। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনারস হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Dr. Sharadwat Mukherjee)। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। হাসপাতালের কর্মীদের পাশাপাশি কথা বলেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সাথেও।

NRS Hospital এ নার্স মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়

তারপরই হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘মৃত নার্সিং স্টাফের স্বামীর সাথে কথা হল, ভাইয়ের সাথে কথা হল। দুজনকেই অবগত করেছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। রাজ্য সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। ওদের প্রথম আবেদন ছিল যাতে ময়নাতদন্তটা অন্য হাসপাতালে হয়। ওরা চেয়েছিলেন মেডিকেল কলেজে হোক। আমরা মেডিকেল কলেজে  ময়না তদন্ত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রশাসন পুরো সহযোগিতা করবে। ওনারা মেনে নিয়েছেন। আমার ফোন নাম্বার আমাদের নার্সিং স্টাফ এর দুই দাদাকে দেওয়া আছে, এবং ওনার স্বামীকেও দেওয়া আছে।’

পরিবারের তরফ থেকে কোন তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, ‘তদন্ত তো এমনিই করা হবে, যে কোনো ক্রাইমে তদন্ত হবেই। আলাদা কিছুই নয়।’ সেইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘আমি যেটুকু কথাবার্তা বললাম, ওনাদের দিক থেকে কোনরকম সন্দেহ কিছু হয়নি। এখনও পর্যন্ত আমরা যা করেছি, যা করছি এবং যা করা হবে তাতে ওনাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ বিয়ের পর পদবী-ঠিকানা বদল, রেশন কার্ডে বদলাবেন কীভাবে? রইল ধাপে ধাপে পদ্ধতি

তখন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ওনারা এনআরএসএ কেন ময়নাতদন্ত করতে চাইছেন না? জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম ওনার কথা হচ্ছে যেহেতু এক জায়গায় হয়েছে, ওনার ওটা পার্সোনাল ইচ্ছা,  কোন সন্দেহ নয় যে অন্যত্র হোক। আর আমরা এই নিয়ে কোন বিতর্ক করি না । মৃত ব্যক্তির হাজবেন্ড যখন এটা চেয়েছেন আমার মনে হয় তর্ক করাটা ঔদ্ধত্য। আমাদের প্রশাসনের নিয়ম হচ্ছে কোন তর্ক বিতর্ক নয়, যা বলেছেন ওনার অর্থ্যাৎ মৃত ব্যক্তির হাজবেন্ডের আবেদন তা অমরা মেনে নিই, এ করতে তো এমন কিছু নয়।’

প্রসঙ্গত বিগত কয়েকদিনে রাজ্যের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা চিকিৎসাকর্মীদের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এপ্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘ধারাবাহিকতাটা আছে বলবো না, যেটুকু ইঙ্গিত সেটাই খারাপ। আমি এটা বলবো না যে ভালো । তার জন্য আমরা বিভাগীয় তদন্ত করছি এই মৃত্যুর ব্যাপারে। তাতে আমরা মানসিক রোগের যে বিভাগীয় প্রধান আছেন তার প্রধান কেউ রাখতে বলেছি। যে কোন রকম মানসিক চাপে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা আছেন কিনা? আমি আলাদাভাবে আমাদের যারা নার্সিং স্টাফরা ছিলেন তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের আলাদা কিছু বক্তব্য ছিল, সেটা আমি শুনলাম । সুতরাং কোথাও আমাদের কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ আছে কিনা সেটা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুনঃ DA-র সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের ভাবনা, কেন্দ্রের সঙ্গে বেতনের ফারাক কমাতে বড় পদক্ষেপ ৭ম বেতন কমিশনের

মৃত নার্সিংসা এর ক্ষেত্রেও কি কোনরকম মানসিক চাপ তৈরী হযেছিল? জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘আন্দাজ করে, কিংবা কোন রকম অনুমানে গিয়ে লাভ নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনরকম সন্দেহ নেই। পরিবারের তরফ থেকেও এ ধরনের কোনো রকম ইচ্ছা প্রকাশ করেনি এবং ইতিহাসও জানাননি। উনি খুবই হাসিখুশি মহিলা ছিলেন সবাই বলেছেন। রোগীরাও বলেছেন দিদি খুব হাসি খুশি ছিলেন জড়িয়ে ধরে কথা বলতেন।’