৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের! পরিস্থিতির দিকে নজর সরকারের

Published on:

Published on:

Petrol-Diesel prices may decrease by 5 rupees per liter.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতার ঘোষণার ফলে অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। সোমবারের প্রথম দিকের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এমতাবস্থায়, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের (Petrol-Diesel Prices) দাম কবে কমবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel Prices):

জানিয়ে রাখি যে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্পর্কের উন্নতির খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৩.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে, ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০.৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সূত্রমতে, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উল্লেখ্য যে, হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার কারণে দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি শুল্কও কমিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, লোকসান যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন দাম বাড়ানো হয়েছিল।

Petrol-Diesel prices may decrease by 5 rupees per liter.

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৭ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে: সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সরকার অবশ্যই সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দেবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে যুদ্ধের সঙ্কটের মেঘ কেটে গেলে পেট্রোল এবং ডিজেলের দামও কমবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের সময়ে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। এমনিতেই কোম্পানিগুলি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ওপর সম্পূর্ণ বোঝা চাপায়নি। তবে, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলে এবং দাম কমলে কোম্পানিগুলির লোকসান দ্রুত পুষিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের উত্তেজনা সামলেই বাণিজ্যে বাজিমাত ভারতের! রফতানিতে বিপুল বৃদ্ধি, চমকে দেবে পরিসংখ্যান

পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে: গত মার্চ মাসে সরকার পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ৩ টাকা কমিয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক শূন্য করা হয়েছে। যেহেতু করের হার ইতিমধ্যেই খুব কম। তাই কর ছাড়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার সুযোগও কম। সুতরাং, দাম কমে স্থিতিশীল হলেই সরকার সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নেবে। জানিয়ে রাখি যে, ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি রফতানি করে। আমেরিকা-ইরান চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু রুপি-ডলার বিনিময় হার এবং উচ্চ পরিবহণ ও বিমার খরচের কারণে আমদানি ব্যয় এখনও প্রভাবিত হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, সরকার প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এতে কিছুটা সময় লাগবে।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় ৩ টি ম্যাচে মাত্র ১ টি ছক্কা! IPL-এ ঝড় তুলে এখন কেন রান পাচ্ছেন না বৈভব? সামনে এল কারণ

অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর নজর রাখা হচ্ছে: উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি বলেছেন, তিনি মনে করেন বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকলে গ্রাহকরা লাভবান হতে পারেন। এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত কমতে থাকলে তেল কোম্পানিগুলির আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে। যা দাম কমানোর সুযোগ তৈরি করবে। যদি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেশ কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে থাকে, তাহলে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।