বাংলা হান্ট ডেস্ক : মেমারির (Memari) রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রেললাইন পার হতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের, তা থেকে এবার অনেকটাই স্বস্তি মিলতে পারে। প্রকল্পগুলি কার্যকর হলে এলাকার পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেমারিতে (Memari) কী তৈরি হতে চলেছে ?
একসঙ্গে সাতটি রেল আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে মেমারি বিধানসভা এলাকায়। শুধু তাই নয়, রসুলপুরে জিটি রোডের উপর তৈরি হতে চলেছে একটি রেল ওভারব্রিজও। রেল দফতরের পক্ষ থেকে সাতটি আন্ডারপাসের প্রস্তাবের কথা জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের নকশাও প্রস্তুত। নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলির সম্মতি প্রয়োজন ছিল। সেই অনুমতি পেতে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা NOC চাওয়া হয়।

পঞ্চায়েতগুলির তরফে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র জমা পড়ায় আপাতত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির দাবি নিয়ে রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের বিধানসভা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একাধিক প্রস্তাব দেন।রসুলপুরে জিটি রোডের উপর ওভারব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আন্ডারপাস তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। বিধায়কের দাবি, আগের বাম আমল এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনেও এই সমস্যাগুলি সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে সেই কাজ এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন : মাসে আপনার ইচ্ছামতো জমান! পোস্ট অফিসের এই ৫টি স্কিমে মিলবে দারুণ সুবিধা
সাতটি আন্ডারপাসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মানব গুহ। তাঁর বক্তব্য, “মেমারি বিধানসভায় বেশ কয়েকটি রেল আন্ডারপাস তৈরির দাবি জানিয়েছিলাম রেলমন্ত্রীর কাছে। আপাতত সাতটি অনুমোদিত হয়েছে। আমাদের পঞ্চায়েতের তরফে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবগুলির স্কেচ তৈরি। এই সাতটি রেল আন্ডারপাস তৈরি হলে মেমারির মানুষের যে কতটা উপকার হবে, তা মেমারিবাসী খুব ভাল করেই জানেন। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের কামাল। জয় পশ্চিমবঙ্গ, জয় ভারত।”
আরও পড়ুন :ট্রেনে রিল দেখা নিয়ে কড়া নিয়ম, জরিমানা গুনতে হবে ৫০০০ টাকা?
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোবনা, কালসা আদিবাসীপাড়া, বাগিলা, তাতারপুর, রসুলপুর এবং পালশিটে আন্ডারপাস তৈরির নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। এই ছয়টি এলাকার পাশাপাশি আরও একটি জায়গায় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই সপ্তম স্থানটির নাম এখনও উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, রসুলপুরে জিটি রোডের উপর যে ওভারব্রিজটি তৈরি হওয়ার কথা, সেটি আন্ডারপাসগুলির থেকে আলাদা একটি প্রকল্প। অনুমোদন ও নকশার পরবর্তী ধাপে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে মেমারির মানুষ।












