ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ভেঙে পড়ল রাঁচি-দিল্লি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, রোগী-চিকিৎসক সহ সওয়ার ছিলেন ৭ জন

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়ার কাছে রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে (Charter Plane Crash) পড়ার  ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাঁচি বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট নাগাদ ফ্লাইট ভিটিএজেভি হিসেবে পরিচালিত মেডিক্যাল বিমানটি রাঁচি থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই বিশেষ মেডিক্যাল ফ্লাইটে মোট ৭ জন ছিলেন— একজন রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক, দু’জন অ্যাটেনডেন্ট, পাইলট-ইন-কমান্ড এবং একজন সহ-পাইলট।

ভেঙে পড়ল রাঁচি-দিল্লি চার্টার প্লেন (Charter Plane Crash)

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্টার্ড মেডিক্যাল এয়ারক্রাফটটি উড়ানে পর প্রথমে পরবর্তী এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। তবে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর রাঁচি বিমানবন্দরের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে দাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এবং তাঁদের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওরও অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: একদিনে ১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি! ৫০ টাকারও কম দামের এই স্টক কিনতে বিনিয়োগকারীদের হুড়োহুড়ি

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা যায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়। বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার বি-৯ এল মডেলের এই বিমানটি রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেডের তরফ থেকে পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিমানটি, ফ্লাইট লেভেল ১৪০-এ উড়ছিল এবং এফ ১৮০-এ ওঠার অনুরোধ করেছিল। রাঁচি এটিসি বিমানটিকে কলকাতা এরিয়া কন্ট্রোলের হাতে তুলে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

 

শেষ রেডিও যোগাযোগ কলকাতা এরিয়া কন্ট্রোলের সঙ্গে ১৪০৪ ইউটিসি (১৯৩৪ আইএসটি) সময়ে রেকর্ড হয়। সূত্রের খবর, এরপর বারাণসীর প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ভিএইচএফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানটি আর বারাণসী বা লখনউ এটিসির সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। রাডার রিপ্লে অনুযায়ী, রাঁচি থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ফ্লাইটটি নির্ধারিত পথ থেকে ডানদিকে বিচ্যুত হয়েছিল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই তৎক্ষণাৎ কলকাতায় রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার সক্রিয় করা হয় এবং পালামাউয়ের কাছে সম্ভাব্য শেষ অবস্থান ধরে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

Ranchi-Delhi Charter Plane Crash with onboarding 7 passengers

আরও পড়ুন: নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা! এই দেশে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি নয়াদিল্লির

অন্যদিকে সিমারিয়া থানার খাসিয়াতু কারামতান্দ জঙ্গলে ধাতব ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর ঘটনাস্থলে প্রপেলারের মতো অংশ ও ইঞ্জিনের কিছু টুকরো দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে খারাপ আবহাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং বিমানটির চূড়ান্ত অবস্থান, আরোহীদের পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব বিস্তারিত জানার চেষ্টার করছে তদন্তকারীরা।