বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভারতের রেশন (Ration) বন্টন ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন সাধারণ মানুষ রেশন দোকান থেকে চাল-গমের মতো খাদ্যশস্য পেতেন। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থার বদলে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার। নতুন নিয়ম চালু হলে রেশন কার্ডধারীরাই ঠিক করবেন, তারা খাদ্যশস্য নেবেন, নাকি তার বদলে টাকা নিতে চান।
ডিজিটাল ভাউচারের মাধ্যমে রেশন (Ration) বন্টন
এই নতুন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে আধুনিক প্রযুক্তি। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর সহযোগিতায় সরকার তৈরি করেছে ‘ই-রুপি’ নামের একটি বিশেষ ডিজিটাল ভাউচার। এই ভাউচারের মাধ্যমেই পুরো রেশন বন্টন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। নতুন পদ্ধতিতে কীভাবে কাজ করবে তা নিম্নে সহজ ভাবে বোঝানো হল।
- মোবাইলে ভাউচার: রেশন কার্ডধারীদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ই-ভাউচার পাঠানো হবে।
- পরিবার পিছু টাকা: পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে টাকার পরিমাণ ঠিক হবে, যেমন ৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকা।
- গ্রাহকের স্বাধীনতা: এই ভাউচার নিয়ে রেশন দোকানে গেলে খাদ্যশস্য নেওয়া যাবে। আবার চাইলে সেই ভাউচার রিডিম করে সরাসরি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকাও নেওয়া যাবে।
কেন এই পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার?
সরকার মূলত তিনটি বড় কারণের জন্য এই ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলের বিশেষ কিছু সুবিধা আছে। সেগুলি হল –
১. বিপুল খরচ কমানো: ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে। কিন্তু হিসেব বলছে, এই প্রকল্প চালাতে সরকারের প্রায় ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এত বড় আর্থিক চাপ কমাতেই বিকল্প পথ খুঁজছে কেন্দ্র।
২. ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল: দেশে বহু ভুয়ো ও ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড রয়েছে। খাদ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৭৬,৩৬৩টি ডুপ্লিকেট কার্ড ধরা পড়েছে। আয়কর, জিএসটি এবং বাহন পোর্টালের তথ্য যাচাই করে অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শুধু উত্তরপ্রদেশেই ৩০ হাজারের বেশি ভুয়ো কার্ড চিহ্নিত হয়েছে।
৩. দুর্নীতি বন্ধ করা: বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই রেশন চুরি, কালোবাজারি বা দালালচক্রের অভিযোগ ওঠে। সরাসরি ব্যাংকে টাকা পাঠানো হলে এই ধরনের দুর্নীতির সুযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এখন কোথায় চালু আছে এই ব্যবস্থা?
এই নতুন নিয়ম এখনও সারা দেশে চালু হয়নি। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জায়গায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু চণ্ডীগড়, পুদুচেরি, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং মহারাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা এই ডিবিটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের কাছে সরাসরি ১১৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার ফেডারেশন’-এর দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে বহু রেশন (Ration) ডিলার কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্বর বসুর আশঙ্কা, টাকা হাতে পেলে অনেকেই সেই অর্থ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার না কিনে অন্য কাজে খরচ করতে পারেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বিরোধী নেতাদের কর্মসূচিতে আর বাধা নয়! শুভেন্দুর মামলায় পুলিশকে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
এই মুহূর্তে গোটা বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন স্তরে রয়েছে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক পর্যালোচনা করেই ধাপে ধাপে সারা দেশে এই নতুন রেশন (Ration) ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।












