বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে উন্নত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল বিনিয়োগ করছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার স্থাপিত হবে। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভারতকে একটি গ্লোবাল ডেটা হাব হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বড় পদক্ষেপ রিলায়েন্সের (Reliance Industries):
জানিয়ে রাখি যে, ভারতের ডেটা ইকোসিস্টেমে এক বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটছে। যার অংশ হিসেবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি ১.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল আকারের AI ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার এবং একটি নিজস্ব সোলার-ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

হতে চলেছে বৃহত্তম প্রকল্প: উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পটি ভারতের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ক্লাস্টার হতে চলেছে। যেটি ওই অঞ্চলে বর্তমানে চলমান গুগলের ১ গিগাওয়াট প্রকল্পের চেয়েও বড় হবে। রাজ্য সরকারের বিনিয়োগ উন্নয়ন কমিটি ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির অনুমোদন করেছে। যার ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ডেটা সেন্টার হাব হওয়ার লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি এগিয়ে চলেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এই প্রকল্পটি ৩ টি পর্যায়ে বিকশিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পোলিপল্লি গ্রামে একটি ৫০০ মেগাওয়াট ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। যা ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত ১ গিগাওয়াট ক্ষমতা তৈরি করা হবে। যেটি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। এই সম্পূর্ণ ক্লাস্টারটি ভোগাপুরামের নতুন বিমানবন্দরের কাছে স্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: ‘এটা অনুচিত…’, বৈভবের প্রসঙ্গে মনু ভাকেরকে প্রশ্ন করতেই তোলপাড় নেটমাধ্যম, গর্জে উঠলেন নেটিজেনরা
এই কোম্পানিগুলিও কাজ করছে: জানা গিয়েছে, কোম্পানিটি এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৩৫ একর জমি চেয়েছে। যার মধ্যে একটি ডেটা সেন্টার, কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিয়োগের অধিকাংশই (প্রায় ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা) ডেটা সেন্টারে ব্যয় করা হবে। এদিকে, রিনুয়েবল এনার্জি প্রকল্পে ৫১,৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। উল্লেখ্য যে, বিশাখাপত্তনম দ্রুত ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠছে। যেখানে সিফাই টেকনোলজিস থেকে শুরু করে ডিজিটাল কানেকশন এবং অনন্ত রাজ কোয়াডের মতো সংস্থাগুলি বড় বড় প্রকল্পে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: সূর্যকুমার যাদবের পর কে হবেন টিম ইন্ডিয়ার T20 অধিনায়ক? এই তারকা খেলোয়াড়কে ঘিরে শুরু জল্পনা
মূলত, রাজ্য সরকারের ডেটা সেন্টার পলিসি ৪.০-র অধীনে, সংস্থাগুলিকে GST রিইম্বার্সমেন্ট থেকে শুরু করে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ সহ ক্যাপিটাল সাবসিডি ছাড়াও, বিভিন্ন ইন্টেসিভ দেওয়া হচ্ছে। এই বিনিয়োগ কেবল ডিজিটাল পরিকাঠামোকেই শক্তিশালী করবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং AI বেসড পরিষেবার সম্প্রসারণকেও ত্বরান্বিত করবে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতে দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা ব্যবহার এবং ক্লাউড পরিষেবার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে, এই প্রকল্পটি দেশকে একটি গ্লোবাল ডেটা ও AI হাবে পরিণত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।












