জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে চালাচ্ছিলেন সমঝোতা-আলোচনা! পাকিস্তানে ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’-এ খতম ধর্মগুরু

Published on:

Published on:

Religious Scholar Maulana Idris killed in 'Targeted Attack' in Pakistan.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে ফের রহস্যজনক ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’। তবে এবার নিশানায় কোনও জঙ্গি সংগঠনের কম্যান্ডার নন, খুন হলেন এক প্রভাবশালী ধর্মগুরু। মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে মৌলানা মহম্মদ ইদ্রিসকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করে মোটরবাইকে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ। হামলার পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের একাধিক জঙ্গি নেতাকে একই কায়দায় খুন করা হলেও, কোনও ধর্মীয় নেতাকে এভাবে নিশানা করার ঘটনা এই প্রথম বলেই মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানে (Pakistan) ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’-এ খতম ধর্মগুরু মৌলানা ইদ্রিস:

এই হত্যাকাণ্ডের পরেই নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জ়ারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ দু’জনেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। যদিও কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং হামলার পেছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের আচ্ছে দিন! কেন্দ্রীয় হারে DA, না পে-কমিশন? কোনটা আগে আসছে?

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মৌলানা ইদ্রিস শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, তিনি পাকিস্তান সরকারের হয়ে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-র সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার অন্যতম মুখও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই টিটিপি-র সঙ্গে সংঘর্ষে জর্জরিত পাকিস্তান সরকার শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছিল, আর সেই দায়িত্বই দেওয়া হয়েছিল ইদ্রিসকে। তবে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির নাকি এই আলোচনার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি বরাবরই টিটিপি-র বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষপাতী। ফলে ইদ্রিসের সঙ্গে সেনা নেতৃত্বের মতবিরোধও ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছিল বলে দাবি বিভিন্ন সূত্রের।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে চারসাড্ডা শহরের তারাঙ্গজ়াই এলাকার বাড়ি থেকে ‘দার-উল-উলুম নৌমানিয়া’ মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইদ্রিস। তারিকাবাদ উটমানজ়াই এলাকায় মাদ্রাসার কাছে পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। হামলায় তাঁর দুই সহকারীও আহত হয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবার বিকেলে তারাঙ্গজ়াইয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

Religious Scholar Maulana Idris killed in 'Targeted Attack' in Pakistan.

আরও পড়ুন: ‘ভারত কিছুই ভুলে যায় না, কাউকে ক্ষমা করে না’, অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে হুঙ্কার ভারতীয় বায়ুসেনার

মৌলানা ইদ্রিস ছিলেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফজ়ল বা জেইউআই-এফ দলের খাইবার পাখতুনখোয়া জেলা সভাপতি এবং দলের শীর্ষ নেতা মৌলানা ফজ়লুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর শ্বশুর মৌলানা হাসান জান এই অঞ্চলে জেইউআই-এফের শক্ত ভিত গড়ে তুলেছিলেন। প্রসঙ্গত, হাসান জানকেও অতীতে টিটিপি হত্যা করেছিল। সেই টিটিপি-র সঙ্গেই পরে আলোচনায় বসেছিলেন ইদ্রিস। ফলে তাঁর হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জঙ্গি সংগঠনগুলির জটিল সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পাকিস্তানে (Pakistan)।