Durga Puja 2026 Live Updates

রুশ তেল ইস্যুতে দিল্লির পাশে মস্কো, আমেরিকার চাপ মানতে নারাজ পুতিন প্রশাসন

Published on:

Published on:

Russia stands by India on oil importing issue.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রুশ তেল কেনা নিয়ে বন্ধু ভারতের হাত ছাড়তে নারাজ রাশিয়া (Russia)। সোমবার রাতে ভারতীয় সময় অনুযায়ী ইন্দো-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই মন্তব্যের পরেই দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সদ্য ঘোষিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায়, তবে কি রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিনিময়েই আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তি? ঠিক সেই আবহেই বৃহস্পতিবার মস্কোর তরফে আসা একটি বিবৃতি পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দেয়।

রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের পাশে রাশিয়া (Russia):

রাশিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোন দেশ থেকে ভারত জ্বালানি তেল কিনবে, তা সম্পূর্ণ ভাবে নয়াদিল্লির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে ভারতের উপর কোনও ধরনের চাপ বা শর্ত আরোপের প্রশ্নই নেই বলে জানায় মস্কো। একই সঙ্গে রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত কেবল রাশিয়ার কাছ থেকেই তেল কেনে—এমনটাও নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা ভারতের বহু দিনের নীতি। পুতিনের দেশের এই অবস্থান দিল্লির জন্য যে স্বস্তিদায়ক, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্যের! রায়কে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বললেন…

এর আগেই মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দপ্তর জানিয়ে দিয়েছিল, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের তরফে কোনও বার্তা তারা পায়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ সে দিনই জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী মস্কো। বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে সেই বার্তাকেই আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—ক্রেতা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ভারতের রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ভারত বর্তমানে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং এই আমদানি দেশের মোট তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পরেও এই তেল কেনা অব্যাহত ছিল। ভারত যদি হঠাৎ করে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দিত, তবে তা মস্কোর জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা হত। সেই প্রেক্ষিতেই রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Russia stands by India on oil importing issue.

আরও পড়ুন: ২৫% এখনই, বাকি ৭৫% DA ঠিক কবে হাতে পাবেন সরকারি কর্মীরা? সুপ্রিম কোর্ট বলল…

অন্য দিকে, ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক ‘পারস্পারিক’ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কহার কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। ট্রাম্পের দাবি, এর বিনিময়ে আগামী দিনে আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আমেরিকার বিরুদ্ধে ভারতের শুল্ক বাধা আরও কমানোর কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।