বাংলাহান্ট ডেস্ক: কঠোর অধ্যবসায় আর অদম্য জেদের মাধ্যমে যে সাফল্য (Success Story) হাসিল করা সম্ভব তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তামিলনাড়ুর এক তরুণ সবরীশ্বরণ। দীর্ঘ ৮ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল হিসেবে তিনি অবশেষে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সিভিল সার্ভিসে সাফল্য পেয়েছেন। চেন্নাইয়ের একটি ছোট্ট একটি ঘর থেকে স্বপ্ন দেখতেন তিনি আর সেখান থেকেই পড়াশোনা করে তিনি এই পরীক্ষায় ৭০০ র্যাঙ্ক অর্জন করে অসাধারণ একটি ফলাফল করেছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক অনটনের মধ্যেও তাঁর এই সাফল্য অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার কাহিনি হয়ে উঠেছে।
সবরীশ্বরণের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
সবরীশ্বরণের এই সাফ্য পাওয়ার যাত্রাটি খুব একটা মনোরম ছিল না। তাঁর পারিবারিক পটভূমিও এই লড়াইকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তাঁর বাবা পেশায় একজন তাঁতি এবং মা একজন গৃহবধূ। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই সাধারণ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের মধ্যে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। সংসারের নানা অভাব ও টানাপোড়েন সত্ত্বেও পরিবার তাঁর স্বপ্নকে কখনও থামিয়ে দেয়নি। বরং বাবা-মায়ের উৎসাহ এবং সমর্থনই তাঁকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্যাস বুকিং হচ্ছে না? এক ফোনেই মিলবে সমাধান, নম্বরটি জানুন
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সবরীশ্বরণ জানিয়েছেন, এবারের প্রচেষ্টা ছিল তাঁর অষ্টম চেষ্টা। এর আগে ৭ বার তিনি চেষ্টা করেও এই পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। তবুও তিনি হার মানেননি। প্রতিবার ব্যর্থতার পর নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করে আবার পরীক্ষা বসেছেন। হাজার বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও পরিবারের বিশ্বাস এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের জোরেই অবশেষে এই কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর এই সাফল্যের গল্প শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দারিদ্র্যতা, প্রবল প্রতিযোগিতা এবং একের পর এক ব্যর্থতার মধ্যেও যে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়, তার এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন সবরীশ্বরণ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে তাঁর এই সাফল্য নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিও শেষ পর্যন্ত জয় করা সম্ভব।

আরও পড়ুন:কূটনৈতিক জয়! ভারতকে ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে বিবেচিত করে হরমুজে ছাড়পত্র দিল ইরান
অনেকেই বলে থাকেন, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা শুধুমাত্র মেধার মূল্যায়ন নয়, এটি ধৈর্য এবং মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বারবার ব্যর্থতা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও লক্ষ্য ধরে রাখতে হয় পরীক্ষার্থীদের। সবরীশ্বরণের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ সেই সত্যকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। আট বছরের অধ্যবসায়ের পর তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে দেয়, জীবনের লড়াইয়ে ধৈর্য ও পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।












