বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। যেখানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে স্পেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এদিকে, বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একটি অত্যন্ত বড় দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। মূলত, ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার তথা জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কোচ কেভিন কিগান (Kevin Keegan) ৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ২ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী (Ballon d’Or) কিগান ক্যান্সারের (Cancer) সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত মাসেই তিনি তাঁর অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। গত সোমবার তাঁর প্রাক্তন ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড কেভিন কিগানের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে। ক্লাবটি তাঁকে তাদের ইতিহাসের সবথেকে আইকনিক প্রভাবশালী ও সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচিত করেছে।
না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার কেভিন কিগান (Kevin Keegan):
ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা: জানিয়ে রাখি যে, ১৯৭০-এর দশকে কিগান শুধু ইংল্যান্ডেই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলেও অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন। তিনি মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিজয়ী মাত্র ৪ জন ইংরেজ খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্যতম একজন। তাঁর ক্ষিপ্রতা, গোল করার ক্ষমতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলে এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
View this post on Instagram
কেভিন কিগান প্রথম দিকের সেইসব ইংরেজ খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন, যিনি ঘরোয়া ফুটবল ছেড়ে ইউরোপের একটি বড় লিগে খেলতে গিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে লিভারপুলের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জেতার পর তিনি জার্মান ক্লাব হামবুর্গ এসভি-তে যোগ দেন।
আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ BCCI-র! ভারতীয় ক্রিকেটে লাগু হতে চলেছে একাধিক নতুন নিয়ম, দেখুন তালিকা
দু’বারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী: উল্লেখ্য যে, হামবুর্গে তিনি ১৯৭৮ এবং ১৯৭৯ সালে পরপর ২ বার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ১৯৭৯ সালে ক্লাবের জার্মান লিগের (বুন্দেসলিগা) শিরোপা জয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হামবুর্গ তাঁকে ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসাবে অভিহিত করেছে। কেভিন কিগান ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৩ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২১ টি গোল করেন এবং ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন।
আরও পড়ুন: টোল প্লাজার ২০ কিমির মধ্যে বসবাসকারীদের জন্য সুখবর! এবার বাড়িতে বসেই বানিয়ে নিন লোকাল পাস
দীর্ঘ কোচিং কেরিয়ার: কোচ হিসাবেও কেভিন কিগান এক অবিস্মরণীয় ছাপ রেখে গেছেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তাঁর কোচিং কেরিয়ারে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ১৯৯৫-৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে, দলটি ইউরো ২০০০-এর প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে যায় এবং ২০০২-এর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ার পর তিনি ইস্তফা দেন। এমতাবস্থায়, এই কিংবদন্তির প্রয়াণে গোটা ফুটবল বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।













