অল্প বয়সেই শিশু-কিশোরদের মগজধোলাই! পাকিস্তানে জিহাদি তৈরির লক্ষ্যে স্কুল খুলল লস্কর-জৈশ

Published on:

Published on:

Schools are being opened in Pakistan with the aim of producing jihadis.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) আছে পাকিস্তানেই। গোটা দুনিয়া ওই দেশের সন্ত্রাসবাদের বিরোধীতা করলেও পাকিস্তান যেন কোনওরকমভাবেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ছাড়তে নারাজ। সেদেশের মাটিতে জঙ্গি তৈরির কার্যকলাপ নতুন নয়, এবার সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও এক নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে, জঙ্গি সংগঠনগুলি এবার সরাসরি ট্রেনিং ক্যাম্পের বদলে ‘বোর্ডিং স্কুল’-এর আড়ালে শিশু-কিশোরদের ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

পাকিস্তানে (Pakistan) জিহাদি তৈরির লক্ষ্যে খুলছে স্কুল:

সূত্রের খবর, এই তথাকথিত এই ‘স্কুল’-গুলির জন্য জায়গায় জায়গায় পোস্টারও লাগানো হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া এবং মাসিক ভাতার প্রতিশ্রুতির মতো প্রলভনও দেওয়া হচ্ছে।জানা গিয়েছে, ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সি শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে। বাহওয়ালপুর, মুরিদকে, লাহোর এবং করাচির মতো শহরে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলার খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিভাবকদের আকৃষ্ট করতে আর্থিক সহায়তার প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে ভুগতে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: আলাদা কলেজ থেকে পাশ করেন MBBS! NEET PG-তে বাজিমাত যমজ ভাইয়ের, গড়লেন নজির

বিভিন্ন মহলের দাবি, পাকিস্তানের বর্তমানে যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রয়েছে তাতে এই এই ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ করে তুলছে। তেল সংকট, বেকারত্ব, খাদ্যাভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির জেরে বহু পরিবার চরম সঙ্কটে রয়েছে। এই অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার আশায় অনেকেই এই ‘স্কুল’-এ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় শিশুদের অল্প বয়স থেকেই মগজধোলাই করে জঙ্গি মতাদর্শে দীক্ষিত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

তাছাড়াও, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্ষতিগ্রস্ত জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেও পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ আর তাতে সহায়তা করছে ISI এবং পাক সেনার। তবে পিওকের একাধিক এলাকায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে পাকিস্তান-বিরোধী মনোভাব বাড়ছে, যার ফলে সরাসরি ভর্তি প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। সেই কারণেই নতুন কৌশল হিসেবে ‘স্কুল’-এর আড়াল বেছে নেওয়া হয়েছে।

Schools are being opened in Pakistan with the aim of producing jihadis.

আরও পড়ুন: একঘেয়ে ঢেঁড়স আর নয়! দোপেঁয়াজায় মিলবে অন্য রকমের স্বাদ, প্রণালী জানুন

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানাচ্ছে, শুধু আলাদা প্রতিষ্ঠানই নয়, পাকিস্তানের (Pakistan) বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুলেও ঢুকে পড়েছে এই সংগঠনগুলির প্রভাব। পড়ুয়াদের সামনে ভারত-বিরোধী বক্তব্য, জিহাদের প্রশিক্ষণ এবং জঙ্গিদের মহিমান্বিত করার মতো কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো ঘটনার উদাহরণ সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।