বাংলা হান্ট ডেস্ক: একটা ব্যক্তিগত সমস্যা থেকেই শুরু হয়েছিল সফল ব্যবসার (Success Story) ভাবনা। ভারতে (India) আন্তর্জাতিক মানের স্কিনকেয়ার পণ্য খুঁজতে গিয়ে বারবার হতাশ হচ্ছিলেন কলকাতার অনীশা আগরওয়াল (Anisha Agarwal)। সেই সমস্যাকেই শেষ পর্যন্ত ব্যবসার সুযোগে পরিণত করেন তিনি এবং তাঁর স্বামী সুয়াশ সরাফ। প্রায় ২০১৮ সালের দিকে নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে তাঁরা শুরু করেন ‘Dot & Key’। লক্ষ্য ছিল এমন স্কিনকেয়ার পণ্য তৈরি করা, যা ভারতীয় গ্রাহকদের নির্দিষ্ট ত্বকের সমস্যা বুঝে তৈরি হবে এবং একইসঙ্গে দেখতে হবে আকর্ষণীয়। শুরুতে সানস্ক্রিন, হ্যান্ড ক্রিম এবং বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্যের উপর জোর দেন তাঁরা। আজ সেই ছোট উদ্যোগই ভারতীয় বিউটি মার্কেটে একটি পরিচিত দেশীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
অনীশা-সুয়াশের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
তবে কলকাতা থেকে একেবারে শূন্য থেকে একটি বিউটি ব্র্যান্ড দাঁড় করানো সহজ ছিল না। লজিস্টিকস, দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়া এবং শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি অভিজ্ঞতার অভাব—শুরুতেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল এই দম্পতিকে। কিন্তু সেই ঘাটতি তাঁরা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন নিজেদের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজন বোঝার মাধ্যমে। প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে পণ্যের নকশা ও প্যাকেজিংয়েও গুরুত্ব দেন তাঁরা। কাস্টম মোল্ড এবং চোখে পড়ার মতো প্যাস্টেল রঙের প্যাকেজিং Dot & Key-কে বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের থেকে আলাদা পরিচিতি দেয়। ফলে পণ্য হাতে নেওয়ার আগেই ব্র্যান্ডটির একটি স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল পরিচয় তৈরি হয়ে যায় (সাকসেস Story)।
আরও পড়ুন: মাথার দাম ৭০ লক্ষ! জঙ্গি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ জারি করল পাকিস্তান
Dot & Key-এর দ্রুত জনপ্রিয়তার পিছনে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করার দিকে নজর দেন প্রতিষ্ঠাতারা। তাঁদের একটি টিন্টেড সানস্ক্রিন বিশেষভাবে নজর কাড়ে এবং ইনস্টাগ্রামে ট্রেন্ড করতে শুরু করে। এই ধরনের পণ্য গ্রাহকদের মধ্যে ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেয়। শুধু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিক্রি বাড়ানোর পরিবর্তে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার কৌশলই Dot & Key-এর বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেয়। সিরাম এবং সানস্ক্রিনের মতো মূল পণ্যগুলিতে ধারাবাহিকভাবে নজর দেওয়া, গ্রাহক ধরে রাখার হার বাড়ানো এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ রাখাও ব্যবসার ভিত শক্ত করে।
ব্র্যান্ডটির সম্ভাবনা দ্রুত বুঝতে পারে Nykaa। ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রায় ৪৪.৫ কোটি টাকার বিনিময়ে Dot & Key-এর ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব অধিগ্রহণ করে Nykaa। পরে ২০২৪ সালে সেই অংশীদারিত্ব বেড়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছয়। এই অংশীদারিত্বের ফলে Dot & Key-এর সামনে অফলাইন বাজারে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং বৃহত্তর গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ব্র্যান্ডটির রাজস্ব প্রায় ১৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছয় বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে শুরু করা একটি উদ্যোগের জন্য এই বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। তবে প্রতিষ্ঠাতারা শুধু বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের অর্থের উপর নির্ভর না করে ব্র্যান্ডের পণ্য, পরিচিতি এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির উপরই জোর দিয়ে গিয়েছেন।

এখন Dot & Key-এর পরবর্তী লক্ষ্য আরও বিস্তৃত বাজার। নতুন পণ্য বিভাগে প্রবেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার এবং অফলাইন রিটেল নেটওয়ার্কেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অনীশা ও সুয়াশের যাত্রা দেখাচ্ছে, ব্যবসা শুরু করার জন্য সবসময় বিপুল পুঁজি বা বড় কর্পোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন হয় না; সঠিক সমস্যাকে চিহ্নিত করে তার কার্যকর সমাধান দিতে পারলে ছোট উদ্যোগও বড় ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে সুয়াশ সরাফ মজা করে নিজের কাজের প্রতি মানসিকতার কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “আমি কলকাতার একজন মারোয়াড়ি। প্রতিদিন টাকা না আয় করলে রাতে ঘুম আসে না।” নিজেদের সঞ্চয় থেকে শুরু করে কোটি টাকার ব্যবসা তৈরি করার এই গল্প তাই শুধু Dot & Key-এর সাফল্য নয়, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ (Success Story)।













