বুর্জ খলিফায় অফিস! ১৪ বছর বয়সেই স্টার্টআপের মালিক! অনবদ্য নজির ভারতীয় বংশোদ্ভূত জৈনমের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এমন এক সাফল্যের (Success Story) নজির গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জৈনম জৈন (Jainam Jain), যা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। যেখানে এই বয়সে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী স্কুলের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে জৈনম গড়ে তুলেছেন নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) স্টার্টআপ ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’। শুধু তাই নয়, সংস্থাটির অফিস রয়েছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায়। অল্প বয়সেই প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যের গল্প আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কী ধরনের অধ্যবসায় প্রয়োজন, জৈনম তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জৈনম জৈনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

তবে জৈনমের সাফল্য শুধুমাত্র একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুবাইয়ের সর্বকনিষ্ঠ এআই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একজন TEDx বক্তাও, তাঁর নামে দুটি পেটেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি পেটেন্টের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি তিনি একটি বইও লিখেছেন এবং ইউটিউবে ১ লক্ষ ৪৫ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে একটি বড় কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। এত অল্প বয়সে একের পর এক সাফল্য অর্জনের রহস্য জানতে চাইলে জৈনম বারবার একটি কথাই বলেন—ধারাবাহিকতা। তাঁর মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অভ্যাসই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

আরও পড়ুন: আমেরিকার ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস! ১৪০ কোটি ভারতীয়ের তরফে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানালেন মোদী

জৈনমের তৈরি ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’ মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কাজকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই প্ল্যাটফর্ম মার্কেটিং, গ্রাহক যোগাযোগ, বিক্রয় ব্যবস্থাপনা, লিড জেনারেশন, নিউজলেটার তৈরি এবং কনটেন্ট প্রস্তুতির মতো একাধিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। এমিরেটস ২৪X৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জৈনম জানান, যখন এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত আলোচনা শুরু হয়নি, তখনই তিনি এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। বর্তমানে স্টার্টআপটি বিটা পর্যায়ে রয়েছে এবং বহু সংস্থা এটি ব্যবহার করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে এই প্ল্যাটফর্মকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

জৈনমের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব ছোটবেলা থেকেই। কার্লি টেলস মিডল ইস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে তাঁর বাবা প্রথমবার তাঁকে একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে নিয়ে যান। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর মনে ব্যবসা সম্পর্কে প্রবল কৌতূহল তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন উদ্যোক্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসার জগৎকে বুঝতে শেখেন। প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের জন্য একটি ভিন্ন পথ বেছে নেন। সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে খুব অল্প বয়সে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে দেয়।

Success Story of Jainam Jain will surprise you.

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম রিজেক্ট হলে ফের আবেদন করা যাবে? গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন মন্ত্রী

জৈনমের লক্ষ্য শুধু একটি সফল (Success Story) সংস্থা গড়ে তোলা নয়, ভবিষ্যতে এমন একটি ইউনিকর্ন কোম্পানি তৈরি করা, যা বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই লক্ষ্য পূরণে ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে তিনি ‘৫০ দিনের চ্যালেঞ্জ’ শুরু করেন। কখনও ৫০টি বই পড়া, কখনও ৫০টি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশ নেওয়া, আবার কখনও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কাছ থেকে শেখার জন্য ভারতজুড়ে প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিভার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত শেখার মানসিকতা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের লক্ষ্যে অটল থাকা। আর সেই বিশ্বাসই আজ ১৪ বছরের জৈনম জৈনকে বিশ্বের তরুণ উদ্যোক্তাদের অন্যতম অনুপ্রেরণার মুখ করে তুলেছে।