বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক দুর্ঘটনায় প্রায় হারাতে বসেছিলেন নিজের গোটা জীবনটাই। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকাহিনিকে সাফল্যের (Success Story) এক আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যান জয়পুরের (Jaipur) এই তরুণী। ২০২১ সালের রাখিবন্ধনের দিন কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন জয়পুরের মনিকা ভাটি (Monica Bhati)। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে পাঁচ দিন তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়েছিল। চিকিৎসকদের আশাও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেয়েকে বাঁচাতে মরিয়া ছিলেন তাঁর বাবা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারকে বাড়ি এবং সঞ্চয়ের বড় অংশ বিক্রি করতে হয়। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন মনিকা।
মনিকা ভাটির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
সুস্থ হয়ে ফেরার পরেও লড়াই অবশ্য শেষ হয়নি। দুর্ঘটনার গভীর ক্ষত তাঁর মুখে দাগ রেখে যায়। সেই চেহারা নিয়ে বাইরে বেরোলেই নানা কটূক্তি শুনতে হত তাঁকে। এমনকী কেউ কেউ বলেছিলেন, তাঁকে আর কেউ বিয়ে করতে চাইবে না। কয়েক মাস নিজের মুখের দিকে আয়নায় তাকাতেও পারেননি মনিকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আঘাতকেই শক্তিতে পরিণত করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন, আর সেখান থেকেই পান বহু মানুষের সমর্থন ও সাহস (Success Story)।
আরও পড়ুন: উৎসবের আগে Amazon-এ বড় ধাক্কা! ফের কর্মী ছাঁটাই, চাকরি হারালেন প্রায় ১,০০০ জন
এরই মধ্যে কর্পোরেট চাকরিটিও চলে যায়। পরিস্থিতির কাছে হার না মেনে বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন মনিকা। শুরু হয় খাবারের ব্যবসার জন্য জায়গা খোঁজা। কখনও বন্যা, কখনও বাড়তি অগ্রিমের দাবি—একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত দিওয়ালির পর জয়পুরের প্রতাপ নগরে একটি ছোট জায়গা পাওয়া যায়। বন্ধু, পরিচিত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে শুরু হয় ‘ফুড কর্নার’-এর পথচলা।
আজ সেই ছোট দোকানই মনিকার পরিবারের অন্যতম বড় ভরসা। বাড়ির মতো স্বাদে সেখানে পরিবেশন করা হয় ডাল, ভাত, ছোলা, নরম রুটি এবং ঢেঁড়সের মতো সাধারণ অথচ পরিচিত খাবার। মায়ের হাতের রান্নার স্বাদই এই খাবারের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ফুড কর্নার’। প্রতিদিন সেখানে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ খাবার খান। বর্তমানে এই ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে, যা দিয়ে ধীরে ধীরে ধার শোধ করছে পরিবারটি।

আরও পড়ুন: ‘স্টারলিঙ্ককে ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে’! মাস্কের অভিযোগে তোলপাড়, কী বলল মোদী সরকার?
তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না মনিকা। যে পরিবার একসময় তাঁর চিকিৎসার জন্য নিজেদের বাড়ি হারিয়েছিল, তাঁদের জন্য নতুন বাড়ি কেনাই এখন তাঁর অন্যতম বড় স্বপ্ন। পাশাপাশি জয়পুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ফুড কর্নার’-এর আরও শাখা খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। দুর্ঘটনা, শারীরিক ক্ষত, চাকরি হারানো কিংবা মানুষের কটূক্তি—কোনও কিছুই শেষ পর্যন্ত মনিকার পথ আটকাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ধাক্কাকে পেরিয়ে নিজের এবং পরিবারের জন্য নতুন করে দাঁড়ানোর গল্পই লিখছেন তিনি (Success Story)।













