একাধিক ব্যর্থতার হয়েছেন সম্মুখীন! পাশে ছিল পরিবার, ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় IFS অফিসার হয়ে স্বপ্নপূরণ সুস্মিতার

Published on:

Published on:

Success Story of Sushmita Singh will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য (Success Story) অর্জন করেছেন সুস্মিতা সিং। তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনের এক অনন্য উদাহরণ। একাধিকবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বা UPSC (Union Public Service Commission) পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS)-এর কর্মকর্তা হিসেবে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য আজ হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

সুস্মিতা সিংয়ের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):

ছত্তিশগড়ের পৃথ্বীপুর গ্রামের বাসিন্দা সুস্মিতা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দেরাদুনে যান এবং কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে একটি সফটওয়্যার সংস্থায় কর্মজীবনও শুরু করেন। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দিয়ে সমাজের জন্য কাজ করা। সেই স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি স্থায়ী ও ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। কঠিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি জানতেন না সামনে কত বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে (Success Story)।

আরও পড়ুন: ভিন্ন সাধের খাবার খেতে চাইলে মেটে দিয়ে বানিয়ে ফেলুন এই সুস্বাদু রেসিপিটি

UPSC পরীক্ষার পথে প্রথম থেকেই বাধার সম্মুখীন হন সুস্মিতা। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থতার পর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম বারেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। পরপর ব্যর্থতা অনেককেই স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেছিল ঠিক উল্টোটা। প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল। নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করতেন। উত্তর লেখার কৌশল উন্নত করা, সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং সময় ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ধীরে ধীরে তাঁর প্রস্তুতি আরও পরিণত ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে ওঠে।

এই দীর্ঘ সংগ্রামের সময় পরিবারের সমর্থন ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে তাঁর বাবা ভানু প্রতাপ সিং, যিনি নিজেও একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস কর্মকর্তা, সবসময় মেয়েকে সাহস জুগিয়েছেন। হতাশার মুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভেঙে পড়তে দেননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রস্তুতিতে বাধা এলেও তিনি মনোবল হারাননি। পরিবারের সহযোগিতায় এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে তিনি মানসিক চাপ ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। মহামারির কঠিন সময় পেরিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে আবার দিল্লিতে ফিরে প্রস্তুতি শুরু করেন।

Success Story of Sushmita Singh will amaze you.

আরও পড়ুন: হাওয়ার বেগে ছুটবে ট্রেন, শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছাবে ৬ ঘন্টায়! বুলেট ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট

অবশেষে ২০২৫ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৩২তম স্থান অর্জন করে সুস্মিতা সিং তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন। তিনি ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসে নির্বাচিত হন এবং নিজের অধ্যবসায়ের ফল হাতে পান। শুধু দীর্ঘ সময় পড়াশোনা নয়, মানসিক স্থিতি বজায় রাখাকেও তিনি সাফল্যের (Success Story) অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করেন। তাঁর গল্প প্রমাণ করে যে ব্যর্থতা কখনও শেষ নয়, বরং নতুন করে শুরু করার সুযোগ। দৃঢ় সংকল্প, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রিয়জনদের সমর্থন থাকলে যে কোনও লক্ষ্য অর্জন সম্ভব—সুস্মিতা সিংয়ের জীবনকাহিনি সেই বার্তাই তুলে ধরেছে।