বাংলাহান্ট ডেস্ক: পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং সেটাই হতে পারে সাফল্যের (Success Story) নতুন শুরুর পথ। সেই বার্তাই আরও একবার সামনে আনলেন ভি কামাকোটি। বর্তমানে IIT Madras-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ একসময় দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা জেইই-তে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। অথচ পরবর্তীকালে তিনিই সেই পরীক্ষার চেয়ারম্যান হন এবং দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে আসীন হন। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নম্বর বা র্যাঙ্ক কখনও মানুষের প্রকৃত সামর্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না।
ভি. কামাকোটির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় কামাকোটি জানান, “ব্যর্থতা বলে কিছু নেই, আছে শেখার সুযোগ।” তিনি ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম-এর বিখ্যাত উক্তির উল্লেখ করে বলেন, ‘FAIL’ শব্দের অর্থ ‘First Attempt In Learning’। নিজের জীবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৮৫ সালে জেইই পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় রসায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র এক অঙ্কের নম্বর পেয়েছিলেন। সেই ফলাফল তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল। কিন্তু তিনি হার মানেননি। সেই ব্যর্থতাকেই শক্তিতে পরিণত করে তিনি নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছান, যা প্রমাণ করে দেয় যে একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনও জীবনের চূড়ান্ত পরিচয় নয়।
আরও পড়ুন: সীমান্ত বিতর্কে সংঘাত নয়, আলোচনাই পথ! ভারতের প্রতি বার্তা নেপালের বিদেশমন্ত্রীর
শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভি কামাকোটি পরে আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০১ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জেইই-এর চেয়ারম্যান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড স্পনসর্ড রিসার্চ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন এবং বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা দেখিয়ে দেয় যে সাফল্য কখনও একদিনে আসে না; বরং প্রতিকূলতাকে জয় করেই তা অর্জন করতে হয়।
নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতিও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন কামাকোটি। তাঁর মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকদের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই পথনির্দেশনা হওয়া উচিত সন্তানের আগ্রহ, সামর্থ্য ও স্বপ্নের ভিত্তিতে। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তৈরি করা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা এবং প্রত্যেকের দক্ষতার ক্ষেত্রও আলাদা। তাই শুধুমাত্র নম্বর বা র্যাঙ্ক দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় উদ্বেগ, হতাশা এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন:সীমাহীন নৃশংসতা! সমুদ্রতটে ৭০০ ডলফিন-তিমির মৃতদেহ, উৎসবের নামে হত্যালীলা দেখতে জমল ভিড়
কামাকোটির মতে, সমাজে কম্পিউটার বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা, সমুদ্র প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান কিংবা অন্য যে কোনও ক্ষেত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রই দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে অবদান রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, তরুণদের শেখাতে হবে যে ব্যর্থতা কোনও সমাপ্তি নয়, বরং উন্নতির সুযোগ। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব, শিশুদের এমন পরিবেশ দেওয়া যেখানে তারা মানসিকভাবে শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। কারণ জীবনের সাফল্য (Success Story) শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।













