বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা UPSC সিভিল সার্ভিসেস। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেন, কিন্তু সাফল্যের (Success Story) মুখ দেখেন হাতে গোনা কয়েকজন। সেই কঠিন পরীক্ষাতেই প্রথম প্রচেষ্টায় নজির গড়েছেন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার বিদূষী সিং। কোনও কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সে এই সাফল্য অর্জনের পর তিনি বেছে নেন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS)। তাঁর এই সাফল্যের গল্প আজ অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
বিদূষী সিংয়ের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
বিদূষীর জন্ম হয়েছিল রাজস্থানের যোধপুরে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি দিল্লির স্বনামধন্য শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সে ভর্তি হন। সেখানে ইকোনমিক্স অনার্স নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ২০২১ সালে। কলেজে পড়াকালীনই তাঁর মনে UPSC-র স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। ২০২০ সাল থেকেই তিনি ধীরে ধীরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে তাঁর প্রস্তুতির ধরন ছিল অনেকটাই আলাদা। যেখানে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী বড় বড় কোচিং প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করেন, সেখানে বিদূষী নিজের উপরই আস্থা রেখেছিলেন (Success Story)।
আরও পড়ুন: অবশেষে স্বস্তি! যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর ইরান-আমেরিকার, হরমুজ থেকে উঠছে অবরোধ
প্রস্তুতির শুরু থেকেই তিনি বেসিক বিষয়গুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এনসিইআরটির পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাথমিক রেফারেন্স বই তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। কোনও শর্টকাট বা মুখস্থ নির্ভর পদ্ধতির উপর তিনি ভরসা করেননি। বরং বিষয়গুলি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। বিদূষীর বিশ্বাস ছিল, ইউপিএসসির মতো পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রথমে জ্ঞানের ভিত শক্ত করা প্রয়োজন। তাই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজের ধারণাগুলি পরিষ্কার করার উপর জোর দেন। ধীরে ধীরে যখন তাঁর প্রস্তুতির ভিত্তি মজবুত হয়ে ওঠে, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে সাফল্যের জন্য সবসময় কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন হয় না।
মূল সিলেবাস শেষ করার পরে বিদূষী নিজের প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করতে বিভিন্ন টেস্ট সিরিজ এবং মক পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি একাধিক পরীক্ষামূলক টেস্ট দেন। এই মক টেস্টগুলিই তাঁর প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিটি পরীক্ষার পরে তিনি নিজের ভুলগুলি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করতেন। কোথায় সময় নষ্ট হচ্ছে, কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে এবং কীভাবে উত্তর লেখার দক্ষতা আরও উন্নত করা যায়—এসব বিষয়ে নিয়মিত কাজ করতেন। সময় ব্যবস্থাপনা এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অর্জনেও এই মক পরীক্ষাগুলি তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: ১ জুলাই মিলবে টাকা! অন্নপূর্ণার নতুন তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা কীভাবে দেখবেন জানুন
অবশেষে ২০২২ সালের UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন তাঁর সমস্ত পরিশ্রম সার্থক হয়। প্রথম প্রচেষ্টাতেই সর্বভারতীয় ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করে তিনি প্রমাণ করে দেন যে লক্ষ্য পরিষ্কার থাকলে এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া গেলে সাফল্য ধরা দেয়। বিদূষী সিংয়ের যাত্রাপথ শুধু একটি পরীক্ষায় সাফল্যের গল্প নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং আত্মনির্ভরতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আজ যখন অনেকেই কোচিং বা বাহ্যিক সহায়তাকেই সাফল্যের (Success Story) একমাত্র পথ বলে মনে করেন, তখন বিদূষীর গল্প দেখিয়ে দেয় যে সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।

















