বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আগের নির্দেশের জেরে সরকারি চাকরি করা বহু মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে পুরনো নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ওবিসি তালিকায় ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত করার জন্য কেন্দ্রকে আরও ৮ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
Supreme Court : ৮ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে কাজ
শুক্রবার বিচারপতি পি নরসিমহা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। এর আগে দেওয়া নির্দেশ কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রকে অতিরিক্ত আট সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত করার কাজ নিয়ে কেন্দ্রের দু’বছর সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের নিয়োগ নিয়ে চিন্তায় ছিল কেন্দ্র
কেন্দ্রের আশঙ্কার মূল কারণ ছিল বিপুল সংখ্যক পুরনো নিয়োগ। আদালতে কেন্দ্র জানায়, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রক এবং তাদের অধীন দপ্তরে মোট ৫.৬৯ লক্ষ সংরক্ষিত পদে নিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে ওবিসিদের জন্য ছিল ৩.৭০ লক্ষ পদ। ১৯৯৩ সালের ৮ অগস্টের অফিস মেমোরান্ডাম এবং পরবর্তী সরকারি নিয়ম মেনেই এই নিয়োগগুলি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ STF-এর জোড়া সাফল্য! বীরভূমে বিস্ফোরক, আসানসোল থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র
কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, নতুন নির্দেশ যদি আগের নিয়োগের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হয়, তা হলে এত কর্মীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, সিভিল সার্ভিসে ক্যাডার বাছাই এবং আধিকারিকদের পদোন্নতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। রেল, ব্যাঙ্ক, ডাক বিভাগ এবং আধাসামরিক বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দিতে পারত। এমনকী, মামলার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, এমন বহু কর্মী ও পরীক্ষার্থীও সমস্যায় পড়তে পারতেন।
কেন তৈরি হয়েছিল এই জটিলতা?
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত গত ১১ মার্চের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে। সেই রায়ে আদালত জানায়, কোনও ওবিসি প্রার্থী ক্রিমি লেয়ারের আওতায় পড়বেন কি না, তা নির্ধারণের সময় শুধু বাবা-মায়ের বেতন বিবেচনা করলেই হবে না। তাঁদের চাকরির পদ এবং সামাজিক অবস্থানও দেখতে হবে।
এই নির্দেশের পরেই কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তাদের বক্তব্য ছিল, নতুন নিয়ম অতীতের সরকারি নিয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও লাগু হলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
এবার আদালত (Supreme Court) জানিয়ে দিয়েছে, ১১ মার্চের নির্দেশ অতীতে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে যাঁদের চাকরি সংক্রান্ত মামলা এখনও বিচারাধীন, তাঁদের বিষয়টি যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা করে দেখা হবে। ফলে পুরনো নিয়োগ নিয়ে আপাতত স্বস্তি মিললেও আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত করার কাজ শেষ করতে হবে কেন্দ্রকে।












