“স্ত্রী পরিচারিকা নন”, ডিভোর্স মামলায় স্বামীকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

Published on:

Published on:

Supreme Court Dismisses Plea Challenging Logical Discrepancy in West Bengal SIR
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিয়ের পর স্ত্রী রান্না করতে চাননি। এই অভিযোগ তুলে ডিভোর্স চেয়ে আদালতে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেই মামলাতেই এবার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ঘরের কাজ শুধু স্ত্রীর দায়িত্ব নয়, স্বামীকেও সেই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

ঘটনাটা ঠিক কী?

সম্প্রতি এক বিবাহবিচ্ছেদের মামলার শুনানিতে স্বামী অভিযোগ করেন, বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর আচরণ বদলে যায়। তিনি রান্না করতে অস্বীকার করেন, এমনকি স্বামীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাঁর বাবা-মাকে অপমান করার অভিযোগও তোলেন স্বামী। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ডিভোর্স চেয়ে আদালতের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কী বলল?

শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে বলেন, স্ত্রী কোনওভাবেই পরিচারিকা নন। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা মন্তব্য করেন, “আপনি কোনও পরিচারিকাকে বিয়ে করছেন না, একজন জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করছেন।” একইসঙ্গে বিচারপতি বিক্রমনাথও বলেন, সময় বদলেছে। এখন পুরুষ ও মহিলা সমান। তাই রান্না, বাসন মাজা বা অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ স্বামীরও করা উচিত এবং স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালে এবং তাঁদের একটি আট বছরের ছেলে রয়েছে। সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় পারিবারিক আদালতে তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সেখানে স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুরতা’র অভিযোগ আনেন। তবে স্ত্রী হাইকোর্টে আবেদন করলে সেই ডিভোর্সের রায় খারিজ হয়ে যায়। এরপর ওই রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে স্বামী সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করেন।

স্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ

অন্যদিকে স্ত্রীর অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির সম্মতিতেই তিনি সন্তান জন্ম দিতে বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তানের অন্নপ্রাশনে তাঁর স্বামী উপস্থিত ছিলেন না। পাশাপাশি, তাঁর বাবার কাছে সোনা ও নগদ অর্থ পণের দাবিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

Supreme Court seeks explanation, dissatisfied with the cut-off for NEET PG score less than zero

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি? এবার হাই কোর্টে DA নিয়ে বড় মামলা

এই মামলায় আগে দম্পতিকে মধ্যস্থতার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত মামলার শুনানিতে স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে ‘নিষ্ঠুরতা’র দাবি মানতে নারাজ হয় শীর্ষ আদালত (Supreme Court) এবং উল্টে তাঁকেই ভর্ৎসনা করে।