বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আবার কলকাতায় আসতে চলেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরে আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর আগমন উপলক্ষে পোস্টারও দেখা যাচ্ছে। সেই পোস্টারের একটি ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অতীতের একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন লেখিকা। পাশাপাশি কলকাতায় আসা সম্ভব হওয়া নিয়ে নিজের মতও জানিয়েছেন তিনি।
২০ বছর পর কলকাতা সফরে তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin), কী বললেন লেখিকা?
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টার শেয়ার করেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। পোস্টারটিতে তাঁর কলকাতা সফরের ঘোষণা, অনুষ্ঠানের স্থান ও সময়ের তথ্য দেওয়া ছিল। সেই পোস্টার শেয়ার করে তিনি লেখেন, বহু বছর আগে ধারাবাহিক ‘দুঃসহবাস’-এর গল্প লেখার কারণে শহরজুড়ে লাগানো দু:সহবাসের হোর্ডিং খুলে ফেলা হয়েছিল এবং ধারাবাহিকটির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তাঁর সফর উপলক্ষে লাগানো নতুন হোর্ডিং বা পোস্টার সরানো হয়নি বলেই উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এটিই বাকস্বাধীনতার একটি ইতিবাচক দিক।
কলকাতায় আসার প্রসঙ্গে তসলিমা (Taslima Nasrin) আরও জানান, শুধু আমন্ত্রণ পাওয়ার কারণে নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই তাঁর এই সফর সম্ভব হচ্ছে। নিরাপত্তা না থাকলে কলকাতায় আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য তিনি রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নিজের বক্তব্যে তসলিমা (Taslima Nasrin) আরও দাবি করেন, ইসলামি জঙ্গি ও জিহাদি গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি থাকার কারণেই তাঁকে নিরাপত্তার মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। ইসলাম সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করার জেরেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং ধর্মের সমালোচনাকে সমাজের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে গ্রহণ করা হলে এই ধরনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ অনেকটাই কমে যাবে।

আরও পড়ুনঃ কারা হারাতে পারেন রেশন কার্ড? নতুন তালিকায় গাড়ির মালিক থেকে ডিরেক্টররা
উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিনকে (Taslima Nasrin) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওসমান গণি মল্লিকের সংগঠন ‘সেকুলার মিশন’। রাজ্য সরকারের ভূমিকা শুধুমাত্র তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ বলে জানা গিয়েছে।













