বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভারতীয় রেলের ইতিহাসে যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে ভবিষ্যতের সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথা থেকে কোথায় চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন (Hydrogen Train) ?
এতদিন পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ ট্রেন চলত ডিজেল বা বিদ্যুতের সাহায্যে। নতুন এই ট্রেন সেই প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে। এতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাইড্রোজেন, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে ট্রেনটি চলবে। প্রথম পর্যায়ে হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপাত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে এই ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে। প্রতিদিন দু’বার আপ এবং দু’বার ডাউন মিলিয়ে মোট চারটি যাত্রা করবে ট্রেনটি। সব মিলিয়ে দিনে প্রায় ৩৫৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। জিন্দ সিটি, গোহানা, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেদা, ভাম্ভেভা, ইসাপুর খেরি, বুটানা, খান্দ্রাই, রাবরা, লাঠ, মোহনা এবং সোনিপাত— এই স্টেশনগুলিতে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকবে।
নিয়মিত পরিষেবায় ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় এটি ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিও স্পর্শ করেছে। যে দূরত্ব অতিক্রম করতে পুরনো ডিজেল ট্রেনের প্রায় দু’ঘণ্টা লাগত, সেখানে এই ট্রেন অনেক কম সময়ে একই পথ পেরোতে সক্ষম। মোট ১০টি কোচ নিয়ে তৈরি হয়েছে ট্রেনটি। এর মধ্যে আটটি যাত্রীবাহী কোচ এবং দু’টি ড্রাইভিং পাওয়ার কার রয়েছে। বসার জন্য রয়েছে ৬৮২টি আসন। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যাত্রা-সহ প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা রয়েছে এই ট্রেনের।
একবার হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং করার পর প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে ট্রেনটি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেনের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ট্রেনে ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের ৫ টাকা থেকে ২৫ টাকার মধ্যে ভাড়া দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই প্ল্যাটফর্ম টিকিট বা মেট্রো রেলের ভাড়ার সমান কিংবা তার থেকেও কম খরচে এই আধুনিক ট্রেনে সফর করা সম্ভব হবে।
ট্রেনের দুই প্রান্তে থাকা পাওয়ার কারে হাইড্রোজেন সিলিন্ডার, ফুয়েল সেল এবং ব্যাটারি সংযুক্ত রয়েছে। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেনের সঙ্গে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। সেই শক্তি সরাসরি মোটরে পৌঁছে ট্রেনকে চালায়। অতিরিক্ত উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সঞ্চিত থাকে, যা দ্রুত গতি তোলা বা উঁচু পথে চলার সময় ব্যবহার করা হয়। আরও একটি বড় সুবিধা হল, ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় এই ট্রেনের শব্দ প্রায় ৬০ শতাংশ কম।
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু হলে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তেল ও ডিজেল আমদানির উপর নির্ভরতাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি যেসব রেলপথে বিদ্যুতের ওভারহেড লাইন বসানো সম্ভব নয় বা ব্যয়বহুল, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ট্রেন এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো মিলিয়ে প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

আরও পড়ুন : হাওড়া-কলকাতা যাতায়াত এবার আরও সহজ! চালু নতুন বাস পরিষেবা, রুট জানুন
‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ কর্মসূচির অধীনে আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন রুটে মোট ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় রেলের। সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে টেকসই ও আধুনিক রেল পরিষেবা গড়ে তোলার পথে এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।













